


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: মঙ্গলবার আট বিরোধী সাংসদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করল মোদি সরকার। রীতিমতো ‘মোশন’ এনে তা প্রত্যাহার করতে বাধ্য হলেন সংসদ বিষয়কমন্ত্রী কিরেন রিজিজু। স্পিকার ওম বিড়লা অনুমোদন করলেন। সংসদীয় আচরণ ভঙ্গের অভিযোগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সাসপেন্ড করা হয়েছিল সাংসদদের। সেই থেকে তাঁরা সংসদে প্রবেশ পথে মকর দ্বারে বসে ধরনা দিয়েছেন।
মোশনের সংক্ষিপ্ত আলোচনায় কংগ্রেসের মুখ্যসচিব কে সুরেশই হন বা সমাজবাদী পার্টির ধর্মেন্দ্র যাদব, সরকারের সমালোচনা করতে পিছপা হননি। বলেন, বিরোধীরা সংসদীয় বিধি মেনে চলবে। কিন্তু সরকারপক্ষ চলবে তো? যেভাবে নিশিকান্ত দুবে আচরণ করেন, তা শুধরানোর দরকার নেই কি? যেই না একথা বলা, সভায় উপস্থিত বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে পালটা বলেন, আমি গত ১৭ বছর সাংসদ। কোনোদিন সীমা লঙ্ঘন করেছি, কেউ দেখাতে পারবে? আমি বিধি মেনে চলি। দুপক্ষের বিতর্ক থামিয়ে স্পিকার মোশন পাশ করান। প্রত্যাহার হয় সাসপেনশন।
অন্যদিকে, আজ বুধবার লোকসভায় যাবতীয় মন্ত্রকের বাজেট ‘গিলোটিনে’ পাশ হবে বলেই সংসদ সূত্রে জানা গিয়েছে। রেল, কৃষি, স্বরাষ্ট্র, বিদেশ এবং বিদ্যুৎ, এই পাঁচ মন্ত্রকের বাজেট নিয়ে লোকসভায় আলোচনা হওয়ার কথা। তবে হয়েছে শুধু রেলের। আগামী কাল বৃহস্পতিবার সংসদে ছুটি। শনিবার ইদ। তাই মধ্যে একদিন শুক্রবারও বসবে না অধিবেশন। তাই আজই সব মন্ত্রকের বাজেট একসঙ্গে গিলোটিনে পাশ হবে। বিরোধীরা আপত্তি করলেও তা শুনবে না সরকার। একইভাবে আগামী সোমবার ২৩ মার্চ লোকসভায় পাশ হবে ‘অর্থ বিল ২০২৬-২৭।’ অর্থাৎ আদতে সংসদে পাশ হবে আগামী অর্থবর্ষের বাজেট বরাদ্দ। যা খরচ হবে এপ্রিল মাস থেকে।
এদিকে, সংসদের সিঁড়িতে রাহুল গান্ধীর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে সরব হয়েছেন দেশের ২০৪ জন প্রাক্তন সেনাকর্মী। বিরোধী সাংসদদের সাসপেন্ড করে দেওয়ার প্রতিবাদে অন্যদের সঙ্গে ধরনায় বসেছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। সেখানে তাঁকে অত্যন্ত ‘ক্যাজুয়াল’ আচরণে কাগজের কাপে চা, বিস্কুট খেতে দেখা গিয়েছিল। সংসদ হলেও কিছুটা কলেজ ক্যান্টিনের আচরণ! তাই বিষয়টি ভালো চোখে না নিয়ে রাহুলের সংসদীয় রীতিনীতি বোধের অভাব রয়েছে উল্লেখ করে দেশবাসীর উদ্দেশে খোলা চিঠি দিয়েছেন প্রাক্তন সেনাকর্মীরা।