নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওষুধের ডিজিটাল মার্কেটিং করার জন্য নিজের আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ইমেল পাঠাত সৌরভ বিশ্বাস। বোমাতঙ্কের ঘটনায় গুজরাত পুলিশের হাতে সে গ্রেপ্তার হয়েছে। কিন্তু তার মেল আইডি সবাই ব্লক করে দেয়। তাই সে ডার্ক ওয়েব থেকে আইডি কিনত। আবার সেগুলি সে বেচে দিত বিভিন্ন মৌলবাদী সংগঠনকে। সৌরভকে জেরা করে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গুজরাত পুলিশের সাইবার ক্রাইম উইং। ডার্ক ওয়েব থেকে যে মেল আইডি কেনা যায় নিজের আইডি ব্লক হওয়ার পরই জেনেছিল সৌরভ। যাতে কোনো ট্রেল না থাকে, এজন্য পুরো লেনদেনই সে করত ক্রিপ্টো কারেন্সিতে।
এরাজ্যের বিভিন্ন ডাকঘর এবং আদালতে দিনকয়েক আগে বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ইমেল মারফত দাবি করা হয় যে, বোমা রাখা আছে এবং কিছুক্ষণের মধ্যে ফাটবে! একইসঙ্গে গুজরাতসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তেও একই ঘটনা ঘটে। ওই মেলের সূত্র ধরে গুজরাত পুলিশ জানতে পারে, এই অপকর্ম চলছে বনগাঁয় বসে। তারপরই সৌরভকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায় তারা।
সৌরভকে জেরা করে তদন্তকারীরা জানতে পারছেন, সে মেল আইডি বিক্রি করত বিভিন্ন ব্যক্তি ও মৌলবাদী সংগঠনকে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মেল আইডি সে পেত কীভাবে, এই প্রশ্নে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে গুজরাত পুলিশ। ধৃত জেরায় জানিয়েছে, সে একটি ওষুধ কোম্পানির হয়ে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের কাজ করত। ওই ওষুধের প্রচারের জন্য কোম্পানির তরফে বিভিন্ন ব্যক্তির মেল আইডি দেওয়া হয়। তার কাজ ছিল নিজের আইডি থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ওষুধ সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো। ‘স্প্যাম’ মেল হিসেবে তার আইডি ব্লক করতে শুরু করে সকলে। এই অবস্থায় তার প্রয়োজন হয় অন্য মেল আইডির, যাতে সেগুলি থেকে সে ওষুধের প্রচার চালাতে পারে। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করতে গিয়ে জানতে পারে, ডার্ক ওয়েবে মেল আইডি বিক্রি হয়। সেইমতো সেখান থেকেই মেল আইডি কিনতে শুরু করে সে।
জেরায় সৌরভ জানিয়েছে, মেল আইডি পেতে অনেকেই যোগাযোগ করত তার কাছে। তাদের মধ্যে মৌলবাদী সংগঠনের লোকজনও ছিল। প্রথম দিকে সে নিজে স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তির নামে বানিয়ে দিত। ডার্ক ওয়েবে মেল আইডি বিক্রির খবর জানার পরই সে গোছা গোছা সেটি কিনতে শুরু করে। দ্বিগুণ টাকায় সেগুলি বেচতে থাকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও মৌলবাদী সংগঠনকে। মেল আইডি বিক্রয়কে ব্যবসায় পরিণত করে সৌরভ। মেল আইডির সঙ্গে ফোন নম্বর দেওয়ার জন্য অভিযুক্ত যুবক ভুয়ো নথি দিয়ে সিম তুলত। সেই নম্বর যুক্ত করত আইডিতে। একইসঙ্গে ডার্ক ওয়েব থেকে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিনে সেগুলিও বিক্রি করত জালিয়াত চক্র ও সন্দেহভাজন লোকজনকে। যাবতীয় লুকনোর জন্য এই কাজের পুরো পেমেন্ট আসত ক্রিপ্টো কারেন্সিতে। তদন্তে প্রকাশ, পশ্চিমবঙ্গের একাধিক ব্যক্তি তার কাছ থেকে মেল আইডি কিনেছে। সেসব থেকেই এখানকার আদালত ও ডাকঘরে বোমাতঙ্কের মেল গিয়েছে। ফোন কলের সূত্র ধরে সংশ্লিষ্ট দুষ্কৃতীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে পুলিশ।