


নিউ ইয়র্ক: ভারতের সর্বদলীয় প্রতিনিধি দলের নেতা হিসেবে আমেরিকায় অভিনব অভিজ্ঞতার সাক্ষী কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর। নিউ ইয়র্কে সাংবাদিক বৈঠকে প্রশ্নকর্তার ভূমিকায় দেখা গেল তাঁরই ছেলে ঈশান থারুরকে। ওয়াশিংটন পোস্টের বিদেশ বিষয়ক কলামনিস্ট হিসেবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন তিনি। পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের যোগ নিয়ে বাবা শশীর উদ্দেশে বেশ কড়া প্রশ্ন করতেও দেখা গেল তাঁকে।
ঈশান হাতে মাইক তুলে নিজের পেশাদারি পরিচয় জানানোর সঙ্গে সঙ্গে শশী রসিকতার সুরে বলে ওঠেন, এসব মোটেও উচিত নয়! এরপর দর্শকদের উদ্দেশে প্রবীণ কংগ্রেস সাংসদ বলেন, যে সাংবাদিক প্রশ্ন করছেন তিনি আমার ছেলে। ঈশানকে হাতের মাইক আরও কিছুটা উপরে তুলে কথা বলার ইঙ্গিতও করেন। তবে সাময়িক রসিকতার সেই পর্ব কাটিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। ঈশান জানতে চান, পহেলগাঁও হামলায় পকিস্তানের জড়িত থাকা নিয়ে ভারতীয় প্রতিনিধি দলের কাছে কোনও দেশের তরফে প্রমাণ চাওয়া হয়েছে? পাকিস্তান তো বারবার জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে চলেছে! জবাবে শশী বলেন, কোনও দেশের সরকারের তরফে আমাদের কাছে কোনও প্রমাণ চাওয়া হয়নি। তবে দু-তিনটি জায়গায় সংবাদ মাধ্যমের তরফে এবিষয়ে প্রশ্ন এসেছে। আমি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিতে চাই, বিশ্বাসযোগ্য ও শাক্তপোক্ত প্রমাণ ছাড়া ভারত সামরিক প্রত্যাঘাতের পথে হাঁটত না।
পহেলগাঁও হামলায় পাকিস্তানের জড়িত থাকা নিয়ে ভারত কেন নিশ্চিত, সেই কারণ ব্যাখ্যা করেন শশী। তিনি বলেন, ৩৭ বছর ধরে মুখে অস্বীকার করে গোপনে সন্ত্রাসবাদে মদত দিয়ে চলেছে পাকিস্তান। ২০০৮ সালে মুম্বই হামলাতেও তারা একই কাজ করেছিল। ওসামা বিন লাদেন যে পাকিস্তানের সেনা শিবিরের নাকের ডগায় গা-ঢাকা দিয়েছিলেন, সেটা গোটা বিশ্বের জানা। মুম্বই হামলার সময় জঙ্গিদের সঙ্গে তাদের পাক প্রভুদের কথোপথন রেকর্ড করা হয়েছিল। পাকিস্তানের এই অভ্যাস বহু পুরনো। জঙ্গি পাঠানোর পর হাতেনাতে ধরা পড়ে। আবার তা অস্বীকারও করে। ভারতের প্রত্যাঘাতে লস্কর-ই-তোইবা ও জয়েশ-ই-মহম্মদের নিহত সদস্যদের শেষকৃত্যে উর্দি পরে হাজির ছিলেন পাকিস্তানের পুলিস ও সেনার শীর্ষকর্তারা।