


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া ও বারাকপুর: মাহেশ থেকে গুপ্তিপাড়া, মহা সমারোহে, ঐতিহ্য অনুসরণ করে বুধবার পালিত হল জগৎপ্রভুর স্নানযাত্রা। প্রবল দাবদাহ উপেক্ষা করে অগণিত ভক্ত বুধবার সকাল থেকে মাহেশের ছ’শো বছর পার করা জগন্নাথ মন্দিরে হাজির হয়েছিলেন। উপচে পড়া ভিড় ছিল গুপ্তিপাড়া বৃন্দাবনচন্দ্র জিউ মঠেও। সেখানকার জগন্নাথ দেবের স্নানযাত্রা এবার ২৮৫ বর্ষে পা দিয়েছে। এছাড়াও হুগলির একাধিক জায়গায় এদিন জগন্নাথ দেবের পুণ্য স্নান উৎসব পালিত হয়েছে। প্রচলিত প্রথা মতে, স্নানযাত্রার পর জগৎপ্রভুর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। সে সময় তিনি মন্দিরের গর্ভগৃহে লেপ মুড়ি দিয়ে বৈদ্যের তত্ত্ববধানে থাকেন। তখন তাঁকে পাচন খাওয়াতে হয়। জ্বর ছাড়লে তিনি মুখের স্বাদ ফেরাতে মাসির বাড়ি যান। সেটাই পুণ্যরথযাত্রা। ২৭ জুন সেই রথযাত্রার তৎপরতা হুগলিতে শুরু হয়ে গিয়েছে।
বুধবার সকাল থেকেই সাজসাজ রব হুগলির শ্রীরামপুরের মাহেশ জগন্নাথ মন্দিরে। এদিন একশো আট ঘড়া পুণ্যবারি দিয়ে জগৎপ্রভুকে স্নান করানো হয়। ঘি, মধু সহ নানা আয়োজনে জগন্নাথকে অভিষেক ও স্নান করানোর রীতি। স্নানপিঁড়ির মাঠে সেই আয়োজন দেখতে অগণিত জনতা ভিড় করেন। এদিন অভিষেক উৎসবকেই বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। ৬২৯ বছরে এবার পা দিয়েছে জগৎপ্রভুর স্নান যাত্রা। এবারই প্রথম মন্দিরের চূড়ায় স্থাপন করা হয়েছে নীলচক্র। অষ্টধাতুর সেই বিশেষ চক্র পুরী থেকে বানিয়ে আনা হয়েছে। এবারের অভিষেক উৎসবের জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক নদীর পুণ্যবারি সংগ্রহ করে আনা হয়েছে। এদিন সে সবের সঙ্গে গঙ্গাজল, আতর, মধু, দই সহ নানা দ্রব্যে ফুলের সাজে সজ্জিত জগৎপ্রভুকে স্নান করানো হয়। বারবার ভক্তদের জয় জগন্নাথ বোলে মুখর হয়ে উঠেছিল স্নানপিঁড়ির মাঠ। মন্দিরের সেবায়েত পিয়াল অধিকারী বলেন, এবার সবটাই বিশেষভাবে আয়োজন করা হয়েছে। আমরা ইতিমধ্যেই মন্দির চূড়ায় নীলচক্র বসিয়েছি। এদিনের স্নানযাত্রাকেও বিশেষভাবে পালন করা হয়েছে। মূল আকর্ষণ ছিল জগৎপ্রভুর অভিষেক। তার জেরে অগণিত ভক্ত সমাগম হয়েছিল। ইতিমধ্যেই রথযাত্রার প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সেটিও এবার বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হবে। গুপ্তিপাড়ার জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার আয়োজকদের অন্যতম বিশ্বজিৎ নাগ বলেন, এদিন প্রভুর স্নানযাত্রায় প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়েছিল। এবার জগৎপ্রভুর জ্বর আসবে। জ্বর ছাড়লে তিনি মাসির বাড়ি মহাভোজে যোগ দেবেন। সেটাই আমাদের রথযাত্রা। আমরা তার প্রস্তুতি শুরু করেছি। এদিন গঙ্গাজল সহ নানা আয়োজনে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা মহা ধূমধামের সঙ্গে পালিত হয়েছে।
হুগলিতে মাহেশের জগন্নাথ মন্দির বা গুপ্তিপাড়া মঠের পাশাপাশি আরও একাধিক জায়গায় রথযাত্রা হয়। তার মধ্যে চন্দননগর সহ একাধিক জায়গায় শতাব্দী প্রাচীন রথযাত্রা আছে। এদিন সর্বত্রই নানা অনুষ্ঠানে জগৎপ্রভুর স্নানযাত্রা পর্ব সুষ্ঠুভাবে পালিত হয়েছে। এর পাশাপাশি স্নানযাত্রার দিন হালিশহরে সাধক রামপ্রসাদের ভিটেয় মা কালীকে ১০৮ কলসের গঙ্গার জল দিয়ে স্নান করানো হয়েছে। ৩০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই রেওয়াজ চলে আসছে বলে জানিয়েছেন মন্দিরের কর্মকর্তারা।