Bartaman Logo
৩ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নাম ছাঁটাই নিয়ে শাহের নীরবতাই হাতিয়ার, প্রচারে ঝড় জোড়াফুলের

বুধবার হাবড়ার নির্বাচনি সভায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঞ্চে নেতাদের ভিড়, আক্রমণের সুর, কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন—সবই ছিল চেনা ছকে। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই নিয়ে কার্যত নীরব ছিলেন মোদির ‘সেনাপতি’ শাহ।

নাম ছাঁটাই নিয়ে শাহের নীরবতাই হাতিয়ার, প্রচারে ঝড় জোড়াফুলের
  • ২৫ এপ্রিল, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বুধবার হাবড়ার নির্বাচনি সভায় আসেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঞ্চে নেতাদের ভিড়, আক্রমণের সুর, কেন্দ্র-রাজ্য টানাপোড়েন—সবই ছিল চেনা ছকে। কিন্তু ভোটার তালিকা থেকে নাম ছাঁটাই নিয়ে কার্যত নীরব ছিলেন মোদির ‘সেনাপতি’ শাহ। আর এই নীরবতাকে শুরু থেকেই রাজনৈতিক হাতিয়ার করেছে তৃণমূল। তাদের দাবি, এই প্রশ্ন এড়িয়েই বিজেপি কার্যত রক্ষণাত্মক অবস্থানে চলে গিয়েছে। 

Advertisement

এই আবহেই হাবড়ার রাস্তায় অন্য ছবি। তীব্র গরম উপেক্ষা করে পায়ে হেঁটে বাজারে বাজারে ঘুরছেন তৃণমূল প্রার্থী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ওরফে বালু। বড়ো মঞ্চের পাশাপাশি সরাসরি মানুষের দরজায় পৌঁছানো—এখন সেটাই তাঁর প্রচারের মূল কৌশল। কখনো হাটের ভিড়ে, কখনো পাড়ার চায়ের দোকানে দাঁড়িয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তিনি। অভিযোগ তুলছেন, ভোটারদের লাইনে দাঁড় করিয়ে রেখে শেষে নামই কেটে দেওয়া হচ্ছে—এটাই বিজেপির জিরো ওয়্যারেন্টি। 
হাবড়ায় এবার ভোটের কেন্দ্রীয় ইস্যু হয়ে উঠেছে ‘নাম ছাঁটাই’। প্রথম খসড়া তালিকায় ৫,৫৮৭ জনের নাম নেই। বিচারাধীন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে আরও ১৮,৭৯১ জন। তৃণমূলের অভিযোগ, এই বাদ পড়া তালিকায় উদ্বাস্তু নমঃশূদ্র ও মতুয়া সম্প্রদায়ের বহু মানুষের নাম রয়েছে। তাদের মতে, এটি নিছক প্রশাসনিক ত্রুটি নয়, বরং নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে প্রভাবিত করার পরিকল্পিত পদক্ষেপ। এই অভিযোগ ঘিরেই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। জ্যোতিপ্রিয়র প্রচারে তাই এখন স্পষ্ট দুই সুর—একদিকে অস্তিত্ব রক্ষার বার্তা, অন্যদিকে মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ। 
দলীয় সূত্রের দাবি, যেসব পরিবারের এক বা একাধিক সদস্যের নাম বাদ পড়েছে, তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়ানো হচ্ছে। আর সেই ক্ষোভকে সংগঠিত করে ভোটে পরিণত করাই লক্ষ্য। পাশাপশি তৃণমূল প্রার্থীর মিছিলে মহিলাদের উপস্থিতিও ক্রমশ বাড়ছে বলেই দাবি ওয়াকিবহাল মহলের। এনিয়ে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক বলেন, বিজেপির ইন্ধনেই নির্বাচন কমিশন মানুষের নাম কেটেছে। তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই হিন্দু ও মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ। আর এবার বিজেপিকে জবাব দেওয়ার জন্যই প্রস্তুত মানুষ।
অন্যদিকে, বিজেপির প্রার্থী বনগাঁর বাসিন্দা দেবদাস মণ্ডল। নাম ছাঁটাই নিয়ে তাঁর স্পষ্ট অবস্থান এখনো সামনে আসেনি। এনিয়ে তাঁকেও কটাক্ষ করছে তৃণমূল। 
অমিত শাহের সভার পর রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন, এই নীরবতা কি কৌশলগত, না কি অস্বস্তির বহিঃপ্রকাশ? উত্তর যাই হোক, হাবড়ায় ভোটের আগে প্রকৃত নাগরিকদের নাম ছাঁটাইই এখন সবচেয়ে ধারালো রাজনৈতিক ইস্যু। আর এই বিষয়কে সামনে রেখেই একদিকে মঞ্চের রাজনীতি, অন্যদিকে পায়ে হেঁটে জনসংযোগ—দুই পথেই লড়াইকে তীব্র করে তুলতে চাইছে তৃণমূল।

সম্পর্কিত সংবাদ