Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এইমস তৈরির আশ্বাসের সঙ্গে আবারও পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ‘গাজর’ ঝোলালেন শাহ

উত্তরে নির্বাচনি প্রচারে এসে সেই এইমসের ‘গাজর’ ঝোলালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে আওড়ালেন কিছু ‘অভ্যস্ত বুলি’। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ‘বিরক্ত’ বিজেপি কর্মীদেরও একাংশ। তাঁদের মন্তব্য, একই কথা আর কতবার শুনব!

এইমস তৈরির আশ্বাসের সঙ্গে আবারও পাহাড় সমস্যার স্থায়ী সমাধানের ‘গাজর’ ঝোলালেন শাহ
  • ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৪
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রাজগঞ্জ, ফালাকাটা ও তুফানগঞ্জ: উত্তরে নির্বাচনি প্রচারে এসে সেই এইমসের ‘গাজর’ ঝোলালেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সঙ্গে আওড়ালেন কিছু ‘অভ্যস্ত বুলি’। যা নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি ‘বিরক্ত’ বিজেপি কর্মীদেরও একাংশ। তাঁদের মন্তব্য, একই কথা আর কতবার শুনব!

Advertisement

রাজগঞ্জ, ফালাকাটা কিংবা তুফানগঞ্জ- বুধবার সর্বত্রই অমিত শাহের বক্তব্যের সিংহভাগ জুড়ে ছিল ‘চর্বিত চর্বণ’। বিজেপি জিতলে উত্তরবঙ্গে এইমস, স্পোর্টস ইউনিভার্সিটি, আইআইটি হবে বলে ‘স্বপ্ন’ ফেরি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। যা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি নেতাদের মুখে একই কথা তো ঊনিশ কিংবা চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগেও শুনেছিলাম। মাঝে একুশের বিধানসভা ভোটেও কিছু বিজেপি প্রার্থী জিতলেন। তারপরও উত্তরবঙ্গে এইমস হল না কেন? এদিন অমিত শাহের মুখে স্পোর্টস ইউনিভার্সিটির কথা শুনে রাজগঞ্জে সভাস্থলেই ফিসফাস শুরু হয়, তাহলে যে এর আগে বলা হয়েছিল উত্তরবঙ্গে কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় হবে। সেটার কী হল? রাজবংশী ভাষাকে অষ্টম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে-কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এমন কথা শুনে প্রশ্ন তুলছেন রাজবংশীদের একাংশ। বলছেন, হবে তো শুনছি অনেকদিন ধরেই। কিন্তু কবে হবে? এর আগে তো শুনেছিলাম, নারায়ণী ব্যাটালিয়নও হবে। সেটাও তো হয়নি।
দার্জিলিংয়ের লেবংয়েও এদিন অমিত শাহের সভা করার কথা ছিল। কিন্তু দুর্যোগের কারণে তা বাতিল হয়। পাহাড়বাসীকে ভার্চুয়ালি বার্তা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে গোর্খাদের ‘সমস্যা’ মেটানোর আশ্বাস দেন তিনি। বলেন, ২১ এপ্রিল সুকনায় সভা করব। সেদিন পাহাড়ের ভাই-বোনদের সঙ্গে দেখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আশ্বাস নিয়ে অবশ্য পাহাড়বাসীর অনেকেরই প্রশ্ন, ২০১৪ সাল থেকে একই আশ্বাস দিয়ে একের পর এক ভোট পাহাড়ের সমর্থন ঝুলিতে পুরছে বিজেপি। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। আসলে গোর্খাদের আবেগ নিয়ে ‘ছিনিমিনি’ খেলছেন পদ্ম পার্টির নেতারা। প্রতিবারই ভোটের ময়দানে বিজেপি নেতারা পাহাড়ের মানুষকে ‘বোড়ে’ বানানোর চেষ্টা করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষণে উত্তরবঙ্গের চা শিল্পের হাল বদলে দেওয়ার কথা শুনেও প্রশ্ন তুলছেন বাগানের শ্রমিকরা। তাঁদের বক্তব্য, চা শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রের ঘোষিত এক হাজার কোটি টাকার তহবিলের কী হল, সেটা কেন বললেন না অমিত শাহ? ডুয়ার্সে কেন্দ্রের অধীনস্থ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার পরিচালনাধীন চা বাগানের শ্রমিকরা কেন মজুরি পাচ্ছেন না, কোটি কোটি টাকা পিএফ বকেয়া কেন, এসব নিয়েও বলা দরকার ছিল। 
এর আগেও কোচবিহারের মদনমোহন মন্দির কিংবা উত্তরবঙ্গের সবচেয়ে বড় শৈবতীর্থ ময়নাগুড়ির জল্পেশ মন্দিরকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক পর্যটনকেন্দ্র গড়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন অমিত শাহ। এতদিনে সেসবের কিছু না হলেও এদিন ফের জল্পেশ মন্দিরে উন্নয়ন ও পর্যটন সার্কিটের কথা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে।

সম্পর্কিত সংবাদ