নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা, বীরভূম: মাধ্যমিকের রাজ্য ভিত্তিক মেধা তালিকায় স্থান করে নিয়েছে বীরভূমের সাত পড়ুয়া। স্বভাবতই উচ্ছ্বসিত জেলার শিক্ষানুরাগীরা। ওই সাতজনের একজন কৃষক পরিবারের সন্তান। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে মহাকাশ গবেষণা করাই লক্ষ্য তার। জেলার অন্যান্য কৃতী পড়ুয়াদের মধ্যেও অনেকে বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। আবার কেউ ডাক্তার হয়ে রোগীর সেবায় আত্মনিয়োগ করতে চায়। শুক্রবার তাদের প্রত্যেককেই মুখ্যমন্ত্রীর তরফে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তা তুলে দেওয়া হয় জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকের অফিসের তরফে। সেইসঙ্গে বিদ্যালয় পরিদর্শকের প্রতিনিধিরা কৃতীদের বাড়ি পৌঁছে তাদের হাতে ফুল ও মিষ্টি তুলে দিয়ে অভিনন্দন জানিয়েছেন। জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক সুজিত সামন্ত বলেন, ভালো ফলাফলের জন্য শিক্ষক ও অভিভাবকদের ধন্যবাদ। ছাত্ররা কঠোর পরিশ্রম করে এই স্থান অর্জন করেছে। এটা প্রমাণ করে যে, পড়াশোনার প্রতি পড়ুয়াদের আগ্রহ রয়েছে। জেলার শিক্ষার মান অগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে। ২০২৪ সালে বীরভূম জেলার তিনজন পড়ুয়া মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছিল। এবছর সেই সংখ্যা একলাফে অনেকটাই বেড়েছে। জেলার সিউড়ি, রামপুরহাট ও বোলপুর মহকুমার মোট সাত পড়ুয়া মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। তিন মহকুমার মধ্যে রামপুরহাট থেকে তিনজন কৃতীর নাম মেধা তালিকায় রয়েছে। বাকি দুই মহকুমা থেকে দু’জন করে পরীক্ষার্থী মেধা তালিকায় নাম তুলেছে। পর্ষদের তালিকা অনুসারে রামপুরহাট জিতেন্দ্রলাল বিদ্যাভবন থেকে যুগ্মভাবে অষ্টম স্থান দখল করেছে অরিজিৎ মণ্ডল ও স্পন্দন মৌলিক। অন্যদিকে, শান্তিনিকেতনের বেসরকারি স্কুলের ছাত্রী শ্রীজয়ী ঘোষও অষ্টম স্থান অধিকার করেছে। তাদের প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৮। দুবরাজপুর শ্রী শ্রী সারদেশ্বরী বিদ্যামন্দির ফর গার্লসের ছাত্রী দিশা ঘোষ ৬৮৭ নম্বর পেয়ে নবম স্থান দখল করেছে। দশম স্থানে জেলার তিন পড়ুয়ার নাম রয়েছে। ময়ূরেশ্বরের কোটাসুর উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র দেবায়ন ঘোষ, গিরিজোর সাঁওতাল হাইস্কুলের পরীক্ষার্থী শেখ আরিফ মণ্ডল ও শান্তিনিকেতনের বেসরকারি স্কুলের ছাত্র সম্যক দাস। প্রত্যেকের প্রাপ্ত নম্বর ৬৮৬। ময়ূরেশ্বরের বাসিন্দা দেবায়নের বাবা উদয়ন ঘোষ কোয়াক ডাক্তার, মা অর্পিতা মণ্ডল পেশায় শিক্ষিকা। আগামীতে দেবায়ন মহাজাগতিক রশ্মি নিয়ে গবেষণা করতে চায়। সদাইপুর থানা এলাকার বাসিন্দা শেখ আরিফ মণ্ডল কৃষক পরিবারের সন্তান। তারও স্বপ্ন মহাকাশ গবেষণায় যুক্ত হওয়া। সেই লক্ষ্যে ইতিমধ্যে পথচলা শুরু করেছে সে। ছেলের সাফল্যে বাবা শেখ সেলিম উচ্ছ্বসিত। তিনি বলেন, আশা ছিল ছেলে প্রথম দশে স্থান পাবে। আমার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। ছেলের সাফল্যে আমি বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। আমি খুবই আনন্দিত। শেখ আরিফও এই ফলাফলে যথেষ্ট খুশি। বর্তমানে সে হাওড়ায় রয়েছে। ফল প্রকাশের আগেই সেখানে থেকে উচ্চশিক্ষার জন্য সে পড়াশোনা শুরু করেছে। অন্যদিকে, বাকি পাঁচ কৃতীর বাবা শিক্ষকতার পেশায় নিয়োজিত। আগামীতে স্পন্দন বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা শেষে বিজ্ঞানী হতে চায়। অরিজিত্, দিশা, শ্রীজয়ী ও সম্যকের স্বপ্ন চিকিত্সক হওয়া।



