


সংবাদদাতা, রানাঘাট: শান্তিপুর ও বীরনগরে পৃথক ঘটনায় একজন যুবতী ও পোলিও আক্রান্ত এক যুবকের রহস্যমৃত্যুতে চাঞ্চল্য ছড়াল। রবিবার সকালে শান্তিপুর পুরসভার ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের চর সারাগড় এলাকায় বাড়িতে শিলা বিশ্বাস(১৯) নামে এক তরুণীকে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভিতরে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় দ্রুত তাঁকে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, আজ, সোমবার তাঁর প্রেমিক প্রতিবেশী এক যুবকের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, তার আগের দিন সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দুই পরিবার ও এলাকায়।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করতেন। প্রায় দু’বছর ধরে প্রতিবেশী যুবক বাপনের সঙ্গে তাঁর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এরপর দুই পরিবারের সম্মতিতে তাঁদের বিয়ে ঠিক হয়। সোমবার বিয়ে উপলক্ষে দুই পরিবারেই তৈরি ছিল।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় হবু স্বামীর সঙ্গে শিলা বাজারে গিয়ে বিয়ের কেনাকাটা করেন। এমনকী রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত শিলার সঙ্গে ফোনে কথাও হয়েছিল বাপনের। কিন্তু, রবিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভিতরে শিলাকে অচৈতন্য অবস্থায় দেখতে পান। মেয়েকে ওই অবস্থায় দেখে বাবা নিমাই বিশ্বাস প্রতিবেশীদের সাহায্যে দ্রুত মেয়েধে শান্তিপুর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে তরুণীকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে শান্তিপুর থানার পুলিশ হাসপাতালে পৌঁছায়। পুলিশ মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
এবিষয়ে প্রতিবেশী যুবক বাপনবাবু জানান, প্রায় দু’বছর আমাদের সম্পর্ক ছিল। তারপর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। আমাদের মধ্যে কোনরকম ঝগড়া বা বাকবিতণ্ডা হয়নি। শনিবার রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল। এরপর সকালে ওর বড়মা ফোন করে জানান শিলার শরীর খারাপ। হাসপাতালে গিয়ে জানতে পারি ও আর নেই।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্য ঘটনায় বীরনগর শহরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিভূতি মিত্র রোড এলাকায় বাড়ি থেকে পোলিও আক্রান্ত এক যুবকের পচাগলা দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মৃত যুবকের নাম দেবায়ন দত্ত(৩৮)। ওই যুবকের মা শিবানী দত্ত কয়েকদিন ধরে ছেলের মৃতদেহ আগলে রেখেছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছিল। প্রথমে এলাকাবাসী মনে করেছিলেন আশেপাশে কোনো পশুপাখি মারা গিয়েছে। পরে স্থানীয়া বিষয়টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মিন্টু দেবকে জানান। এরপর কাউন্সিলার ও স্থানীয়রা বাড়ির দরজায় গিয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। তখন ওই যুবকের মা দরজা খুললে তারা দেখতে পান ঘরের ভিতরে বিছানায় পড়ে রয়েছে যুবকের দেহ।
প্রতিবেশীদের দাবি, ছেলে মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি। ফলে কয়েকদিন ধরে দেহটি ঘরের মধ্যেই পড়ে ছিল। দুর্গন্ধ বের হওয়ার পরেই বিষয়টি জানা যায়। স্থানীয় কাউন্সিলার জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই দৃশ্য দেখে পুলিশকে বিষয়টি জানাই। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। স্থানীয়দের মতে, ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরেই শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। ছেলের মৃত্যুতে শোকে ভেঙে পড়েছেন মা শিবানীদেবী।