সংবাদদাতা, কল্যাণী: হরিণঘাটা থানার বিরহীর রায় বাড়িতে দীর্ঘ প্রায় ১০৮ বছর ধরে দুর্গাপুজো হয়ে আসছে। সেখানে প্রথা অনুযায়ী, বন্দুক থেকে গুলি চালিয়ে সন্ধিপুজোর সূচনা হয়। জমিদার যজ্ঞেশ্বর রায় ১৩২৪ সালে নিজের বাড়িতে এই পুজো শুরু করেছিলেন। বাড়ির বেল গাছের তলায় থাকা দুর্গা দালানে দেবীর বোধন হয়। সেখানেই হয়ে আসছে পুজো। একসময় ধুমধাম করে আয়োজন করা হতো এই রায় বাড়ির পুজো। দূরদূরান্ত থেকে মানুষ পুজো দেখতে আসতেন। পুজোর ক’টা দিন ওই এলাকা উৎসবের চেহারা নিত। হরিণঘাটার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে এই জমিদার বাড়ির নাম ও যশ ছিল। এখন সে সব অতীত। তবে জৌলুস হারিয়ে গেলও রীতি-নীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে এখনও এই জমিদার বাড়ির পুজো চলছে। এক সময় একান্নবর্তী পরিবারের লোক সংখ্যা ছিল প্রচুর। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, দেবী দুর্গা তাঁদের বাড়ির মেয়ে হিসেবে পূজিত হন। অষ্টমীর দিন নিজেদের লাইসেন্স প্রাপ্ত দোনলা বন্দুক দেগে সন্ধিপুজোর সূচনা করা হয়। নবমীর দিন ভোগ দেওয়া হয় মাকে। দশমীতে দেবীকে বাড়ির সদস্য এবং গ্রামের মানুষ কাঁধে করে নিয়ে যান যমুনায় নিরঞ্জন দিতে। একচালা এই দুর্গা প্রতিমা বংশ পরম্পরায় স্থানীয় পালেরা মূর্তি গড়ার কাজ করে আসছেন। একসময় গ্রামের সকল মানুষকে তিন দিন ধরে কলা পাতায় ভোগ খাওয়ানোর রীতি ছিল। বর্তমানে আধুনিকতার ছোঁয়ায় মাটির পরিবর্তে চেয়ার টেবিলে বসিয়ে গোটা গ্রাম থেকে আসা মানুষ এই রায় বাড়ির পুজোর প্রসাদ গ্রহণ করেন। সারা বছর পরিবারের সদস্যরা এবং গ্রামের সাধারণ মানুষ বিরহী রায় বাড়ির দুর্গাপুজোর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেন। নিজস্ব চিত্র



