


মস্কো: মার্কিন নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মোতায়েন নিয়ে বাগযুদ্ধ চরমে উঠেছে। তার মধ্যেই রবিবার যৌথ অ্যান্টি-সাবমেরিন মহড়া সারল রাশিয়া ও চীনের নৌবাহিনী। মহড়ায় রাশিয়ার একটি অ্যান্টি-সাবমেরিন যুদ্ধজাহাজ ও চীনের দু’টি ডেস্ট্রয়ার অংশ নেয়। এছাড়াও ছিল দুই দেশের একাধিক ইলেকট্রিক-ডিজেলচালিত সাবমেরিন ও সাবমেরিন উদ্ধারকারী চীনা জাহাজ। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এই মহড়া চলবে। কয়েকদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, রাশিয়াকে টার্গেট করে ‘নির্দিষ্ট জায়গা’য় দু’টি নিউক্লিয়ার সাবমেরিন মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও ওই ডুবোজাহাজগুলি ঠিক কোন জায়গায় মোতায়েন করা হয়েছে, তা অবশ্য জানাননি ট্রাম্প।
এই হুঁশিয়ারির পরেই পাল্টা জবাব দেয় রাশিয়াও। আমেরিকার দু’টি সাবমেরিন রুখতে পর্যাপ্ত নিউক্লিয়ার সাবমেরিন হাতে রয়েছে বলে জানায় মস্কোও। তার মধ্যেই রাশিয়া ও চীনের এই যৌথ মহড়া ঘিরে উত্তেজনার পারদ আরও চড়বে কি না, তা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। যদিও মস্কো ও বেজিং জানিয়েছে, ‘মেরিটাইম ইন্টারঅ্যাকশন-২০২৫’ নামে এই মহড়ার সিদ্ধান্ত অনেক আগেই ঠিক হয়েছিল। এর সঙ্গে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যের কোনও যোগ নেই। এই মহড়ায় ডুবোজাহাজ ধ্বংসের মহড়া, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আর্টিলারি ফায়ারিংয়ের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া সমুদ্রে উদ্ধার অভিযানের মহড়াও হবে।
২০২২ সালে ইউক্রেনের সঙ্গে যুদ্ধে জড়ানোর পরেই চীনের কৌশলগত চুক্তি করে রাশিয়া। তারপর থেকেই দুই দেশ নিয়মিত যৌথ সামরিক মহড়ার আয়োজন করে থাকে। সম্প্রতি রাশিয়াকে ‘মৃত অর্থনীতি’র দেশ বলেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তার জবাবে রাশিয়ার প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভ হুঁশিয়ারির সুরে জানান, আমেরিকা যে নীতি নিয়ে এগচ্ছে, তার জেরে যুদ্ধ হতে পারে। ‘মৃত’ অর্থনীতির জবাবে ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কার রুশ পরমাণু অস্ত্রসম্ভারের কথা স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।