


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রোজগার ও আর্থিক স্বাধীনতায় শহরের পাশাপাশি পিছিয়ে নেই গ্রামের মেয়েরাও। তবে শুধু রোজগার করলেই হল না। সেই টাকা খরচে নিজের মতামত খাটে কি? অর্থ জড়িয়ে আছে, এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মেয়েদের মতামত আদৌ গ্রাহ্য হয় কি? আন্তর্জাতিক নারীদিবসকে কেন্দ্র করে একটি সমীক্ষায় উঠে এসেছে গ্রামীণ মহিলাদের প্রকৃত অর্থে আর্থিক স্বাধীনতার উজ্জ্বল দিকটি। মহিলা উদ্যোগপতি, মোটা টাকা মাইনের মহিলা চাকরিজীবীদের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আর্থিক নির্ভরতার পথে সমান্তরালভাবে চলেছেন গ্রামীণ কর্মরতারাও, বলছে সমীক্ষা।
ব্যবসায়ী হোন, বা চাকরিরতা মহিলা—আর্থিক বিষয়ে শেষ সিদ্ধান্ত কে নেন? ডিবিএস ব্যাংকের করা সমীক্ষাটি জানাচ্ছে, মহিলা উদ্যোগপতিদের ৬৯ শতাংশই নিজে এই সিদ্ধান্ত নেন। ২৬ শতাংশ মহিলা যৌথভাবে সেই সিদ্ধান্ত নেন। তা হতে পারে তাঁর স্বামী বা ব্যবসার পার্টনার। যাঁরা মোটা মাইনের চাকরি করেন, তাঁদের ৫৮ শতাংশ আর্থিক সিদ্ধান্ত একা নেন। অথচ গ্রামের কর্মরতা মহিলাদের ৬০ শতাংশ জনাচ্ছেন, এই বিষয়ে তাঁরা অন্য কারো মতামতের ধার ধারেন না। তবে ৩৬ শতাংশ গ্রামীণ মহিলা আর্থিক সিদ্ধান্তে স্বামী বা অন্য কারো সঙ্গে আলোচনা করে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসেন।
আর্থিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত তো নেওয়া হল। সিদ্ধান্তটি সঠিক হল কি না, তা নিয়ে কমবেশি ধন্দে থাকেন সব মানুষই। এক্ষেত্রে মহিলাদের আত্মবিশ্বাস কতটা? সমীক্ষাটি বলছে, যাঁরা উদ্যোগগতি, তাঁদের ৫৮ শতাংশ অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসী। উচ্চ বেতনের চাকরিরতাদের মধ্যে সেই হার ৬৭ শতাংশ। গ্রামীণ মহিলারা এই বিষয়ে বাকিদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে। তাঁদের আত্মবিশ্বাসের হার ৭৬ শতাংশ। টাকার অঙ্ক যাই-হোক না কেন, সেই টাকাকে সবচেয়ে ভালোভাবে কাজে লাগাতে কী পরিকল্পনা মহিলাদের? সমীক্ষা বলছে, যাঁরা উচ্চহারে উপার্জন করেন, তাঁদের ৬৪ শতাংশ চান নিজের নামে একটি বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনতে। অথবা কোনো সম্পদ সৃষ্টিতে মন দেন তাঁরা। মহিলা উদ্যোগপতিদের ক্ষেত্রে সেই হার আরো বেশি, ৭৩ শতাংশ। তবে গ্রামীণ মহিলাদের মধ্যে বড়ো সম্পদ কেনার চিন্তাভাবনা তেমন একটা আসে না, মানছে সমীক্ষা। তাহলে তাঁরা নিজের অর্থের বিনিময়ে কী স্বপ্ন দেখেন? সমীক্ষাটি বলছে, ৭৩ শতাংশ গ্রামীণ মহিলা তাঁর রোজগারের টাকা সন্তানের পড়াশুনোর জন্য খরচ করতে চান। সন্তানের সাফল্যই তাঁদের শেষ চাওয়া। এক্ষেত্রে অনেকটা পিছিয়ে উচ্চ রোজগেরে নারীরা। চাকরিরতাদের ৩৮ শতাংশের উপার্জন খরচ হয় সন্তানের পড়াশোনায়। উদ্যোগপতিদের ক্ষেত্রে সেই হার ৪৬ শতাংশ।
উপার্জনের টাকা কত খরচ হল, কীভাবে খরচ হল, সঞ্চয় হবে কীভাবে, রোজগারের পথ আরো বাড়ানো যায় কি না, এসবের সামগ্রিক বিশ্লেষণে এগিয়ে কারা? সমীক্ষা বলছে, চাকরিরতাদের ২৮ শতাংশ প্রতিমাসে এই সংক্রন্ত পর্যালোচনা করে থাকেন। বছরে দুবার তা করার হার ২৫ শতাংশ। প্রতিসপ্তাহে এই নিয়ে মাথা ঘামানোর হার মাত্র ৯ শতাংশ। মহিলা উদ্যোগপতিদের ক্ষেত্রে মাসে একবার সবকিছু বিবেচনা করার হার ৪১ শতাংশ। ফি সপ্তাহে তা করে থাকেন ২২ শতাংশ ব্যবসায়ী। কিন্তু এঁদের কেউই প্রতিদিন নিজের রোজগারের পর্যালোচনা করেন না। সমীক্ষা বলছে, গ্রামীণ মহিলারা প্রতিদিন নিজেদের আয় খরচের হিসেব কষতে অভ্যস্ত। তাঁদের ২৩ শতাংশ প্রতিদিন এই কাজ করেন। ২৩ শতাংশ মহিলা সপ্তাহান্তে হিসেবপত্র নিয়ে বসেন। মাসে একবার সেই কাজ করার হার ২২ শতাংশ। মোট কথা, গ্রামীণ রোজগেরে গিন্নিরা যে নিজেদের উপার্জন নিয়ে যথেষ্ট সচেতন, তা দেখিয়ে দিয়েছে ওই সমীক্ষা।