নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নবাবি মুলুকের মাটিতে যেন নেমে এসেছে এক টুকরো হিমাচল। বেলডাঙার স্কুলশিক্ষক রূপেশ দাস নিজের বাগানে হিমাচল প্রদেশের তিন প্রজাতির সুস্বাদু আপেল ফলাচ্ছেন। তিন প্রজাতির আপেলেরই ব্যাপক ফলন হয়েছে। গাছের ডাল মিষ্টি আপেলের ভারে নুইয়ে পড়েছে। রোজই সকাল-বিকেলে স্থানীয়রা রূপেশবাবুর আপেল বাগানে ভিড় জমাচ্ছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার জলবায়ু উষ্ণ ক্রান্তীয় প্রকৃতির। এখানকার পরিবেশ আপেল উৎপাদনের জন্য আদর্শ নয়। তবু টানা চারবছর ধরে বেলডাঙার মাটিতে আপেল ফলিয়ে অবিশ্বাস্য ফলন পেয়েছেন রূপেশবাবু। পেশায় স্কুলশিক্ষক এই ভদ্রলোকের বাগান করার শখ বহুদিনের। বিভিন্ন ধরনের গাছ লাগিয়ে বাড়ির সামনেই সাজানো বাগান তৈরি করেছেন। এবার সেখানে হিমাচল প্রদেশের তিন প্রজাতির আপেলের ফলন নজর কেড়েছে। সবচেয়ে বেশি সুস্বাদু ডর্সেট গোল্ডেন প্রজাতির আপেল। তবে ফলের আকৃতির দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে অ্যানা প্রজাতির আপেল। রূপেশবাবুর অভিজ্ঞতায় এইচআরএম-৯৯ প্রজাতির আপেল গাছের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সবচেয়ে কম। পোকা, পাখি ও বাদুড়ে অনেক ফল নষ্ট করেছে। কিন্তু তারপরও গাছে প্রচুর আপেল রয়েছে। এবার বাগানের ছ’টি গাছের মধ্যে পাঁচটিতে শয়ে শয়ে ফল ধরেছে। সবুজ আপেলে লাল আভা দেখা যাচ্ছে।
বেলডাঙার ১৪নম্বর ওয়ার্ডের কাছাড়িপাড়ায় বাড়ি লাগোয়া দেড়কাঠা বাগানে আপেল ফলিয়েছেন রূপেশবাবু। পাঁচবছর আগে হিমাচলের একটি ফার্ম থেকে ১০টি আপেলগাছের চারা আনিয়েছিলেন। একবছর পার হতে না হতেই গাছে ব্যাপক ফলন হতে শুরু করে। রূপেশবাবু বলেন, প্রথম একবছর আপেলগাছের পরিচর্যা করতে হয়। বিশেষ করে শিকড়ের যত্ন নিতে হয়। কারণ আপেলগাছের শিকড় মিষ্টি স্বাদের হওয়ায় উইপোকার আক্রমণ বেশি হয়। হিমাচলের এক আপেল চাষির সঙ্গে কথা বলে, নিউট্রিশন ম্যানেজমেন্টের প্রশিক্ষণ নিয়ে সুফল পেয়েছি।
উষ্ণ ক্রান্তীয় জলবায়ুতে আপেল চাষ সম্ভব নয়, এই ধারণা ভেঙে দিয়েছেন রূপেশবাবু। তাঁর বাগানের আপেল গাছগুলির উচ্চতা এখন ১০-১২ফুট। গতবছর ফুল আসার সময় থেকেই পরিচর্যায় মন দিয়েছিলেন। এবার নিউট্রেশন ম্যানেজমেন্ট ও পিআরজি স্প্রে করে অভাবনীয় ফল পেয়েছেন।
বাগান পরিচর্যায় সহযোগিতা করেন তাঁর স্ত্রী রাজশ্রীদেবী। তিনি বলেন, কাশ্মীর, হিমাচলের আপেল গাছ দেখার স্বপ্ন পুষে রেখেছিলাম। স্বামীর শখে আমার স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আপেল গাছের গাছের গোড়া যাতে শুকিয়ে না যায়, সেদিকে নজর রাখতে হয়। আবার গোড়ায় জল জমা রুখতেও সতর্ক থাকতে হয়েছে। আপেলের পাশাপাশি রূপেশবাবুর বাগানে পিচ, পার্সিমন, অ্যাপ্রিকট ফলের গাছও রয়েছে। শখের বাগানে কেশর অর্থাৎ জাফরানও ফলিয়েছেন। তাঁর বাগানের নানাবিধ ফুল-ফল দেখতে বহু মানুষ ভিড় করেন। দূরদূরান্ত থেকে এসে অনেকে আপেলগাছের সামনে সেলফিও তোলেন। -নিজস্ব চিত্র