Bartaman Logo
৫ জুলাই, ২০২৬

‘সাধারণকে বিপদে ফেলে এমন বিধি আনা উচিত নয়’, বোধোদয় মোদির

তিনি  সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাজারে চালু দু’টি নোট হঠাৎ বাতিল করে দেওয়া হবে। এরপর এনেছিলেন একটি আইন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আ‌ইন। যার নাম সিএএ।

‘সাধারণকে বিপদে ফেলে এমন বিধি আনা উচিত নয়’, বোধোদয় মোদির
  • ১০ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: তিনি  সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন বাজারে চালু দু’টি নোট হঠাৎ বাতিল করে দেওয়া হবে। এরপর এনেছিলেন একটি আইন। নাগরিকত্ব সংশোধনী আ‌ইন। যার নাম সিএএ। পাশাপাশি একই ধাঁচের একটি ব্যবস্থা হয়েছে এনআরসি। এরপর এসেছে এসআইআর। বিগত ১১ বছরের একের পর এক আইন কিংবা রুলস এনেছেন নরেন্দ্র মোদি। অথচ সেইসব আইন অথবা বিধির জেরে ভারতবাসীর কী উপকার হয়েছে এখনও স্পষ্ট নয়। কিন্তু নাগরিকদের জীবনযাপন বারংবার হয়েছে দুর্বিষহ। এটিএমের লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। মৃত্যু হয়েছে শতাধিক। সিএএ নিয়ে সংঘর্ষ। প্রাণহানি। এসাইআরের জেরে প্রকৃত নাগরিকের রাতের ঘুম চলে গিয়েছে। মানসকি চাপে সাধারণ নিরীহ শিক্ষকরা আত্মহত্যা করছে। এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে নরেন্দ্র মোদি মঙ্গলবার হঠাৎ বলেছেন, আইন কানুন, বিধি নিয়ম হঠাৎ করে জারি করে সাধারণ মানুষের উপর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। আইন কিংবা বিধি কোনও ভালো কাজের জন্য অথবা সংশোধনের লক্ষ্যে করা হলেও সেগুলি নাগরিকদের সমস্যায় ফেলবে, জীবনযাপনকে সঙ্কটে ফেলে দেবে, মানুষের প্রাত্যহিক জীবনে অস্থিরতা তৈরি হবে— এটা হওয়া উচিত নয়। মঙ্গলবার সংবিধান ভবনে (পুরনো সংসদ ভবন) এনডিএ সংসদীয় দলের বৈঠকে মোদি এমপিদের উদ্দেশে বলেন, মানুষের জীবনকে সুস্থিতি দেওয়াই এনডিএ সরকারের লক্ষ্য। মানুষকে বিপদে ফেলা নয়। মোদি বলেন, যদি উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনও ব্যবস্থার পরিবর্তন করতেই হয়, তাহলেও দেখতে হবে সেই নতুন নিয়ম বা আইন যেন নাগরিকদের বিপদে না ফেলে। যেমন আমরা ইজ অফ ডুয়িং বিজনেস অথবা বাণিজ্যের সহজীকরণের কথা বলি, তেমনই জীবনযাপনের সহজীকরণকেও গুরুত্ব দিতে হবে। মোদি বলেন, সরকারের কাজ কী? সরকারের কাজ হল মানুষকে একটু স্বস্তি দেওয়া। সমস্যা থেকে মুক্তি দেওয়া।  সরকারি আইন বা নিয়মকানুনের জেরে নাগরিকদের কোনও অসুবিধা হলে, সেটা কিন্তু দূর করতে হবে। এদিন মোদি এমপিদের নির্দেশ দেন, তাঁরা যেন বেশি করে তাঁদের লোকসভা কেন্দ্রগুলিতে যান এবং নাগরিকদের সমস্যা সম্পর্কে অবগত হন। তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে। মোদি বলেছেন, শুধুই আর্থিক সংস্কার নয়। জীবনযাপনের সংস্কারেও জোর দিতে হবে। আর সরকারি কাজকর্ম যেন সহজ হয়। মানুষকে সুরাহা দিতে হবে। মোদির পরামর্শ, একঝাঁক পৃষ্ঠা সংবলিত ফর্ম যেন না থাকে। অল্প কিছু কলামেই ফর্ম পূরণ করতে হবে। 

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ