


চণ্ডীগড়: আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের পর এবার কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংক। এক মাসের মধ্যে হরিয়ানায় ফের বড়োসড়ো আর্থিক জালিয়াতি। পঞ্চকুলা পুরসভার একাধিক ফিক্সড ডিপোজিট থেকে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ। জানা গিয়েছে, ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা বিভিন্ন ভুয়ো অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রশাসনের সন্দেহ, ঘটনায় ব্যাংক কর্মীদের পাশাপাশি পুরসভার আধিকারিকদের হাত থাকতে পারে। ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী নায়েব সিং সাইনি।
সম্প্রতি পঞ্চকুলা পুরসভার ৫৮ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট ম্যাচিওর হয়। বিষয়টি জানার পরেই অ্যাকাউন্টে সেই টাকা পাঠানোর আরজি জানায় পুরসভা। সঙ্গে সঙ্গে স্টেটমেন্ট দিয়ে ব্যাংক জানায়, টাকা হস্তান্তর করা হয়ে গিয়েছে। তবে পুরসভার অ্যাকাউন্টে কোনো টাকাই ঢোকেনি। পরে জানা যায়, পুরসভাকে জাল ব্যাংক স্টেটমেন্ট দেওয়া হয়েছিল। তদন্তকারীরা জানতে পারেন, পঞ্চকুলা শাখায় থাকা প্রত্যেকটি ফিক্সড ডিপোজিট ভুয়ো ছিল। অ্যাকাউন্টগুলিতে কোনো টাকা ছিল না। অভিযোগ, নথি জাল করে দীর্ঘদিন ধরে জালিয়াতির বিষয়টি লুকিয়ে রেখেছিলেন ব্যাংক কর্মীরা। সব মিলিয়ে প্রায় ১৬০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে জানা গিয়েছে। পঞ্চকুলা পুরসভার কমিশনার বিনয় কুমার বলেন, ‘কয়েকটি ফিক্সড ডিপোজিট রিসিপ্ট দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চকুলা শাখায় রাখা ছিল। সম্প্রতি একটি ফিক্সড ডিপোজিটের মেয়াদ শেষ হওয়ায় টাকা ট্রান্সফার করতে বলা হয়। তখনই অসঙ্গতির বিষয়টি নজরে আসে। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।’ কোটাক মহিন্দ্রা ব্যাংকের এক মুখপাত্র বলেন, ‘নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য ব্যাংকের তরফে পঞ্চকুলা থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়ায় পুরসভা, প্রশাসনকে সহযোগিতা করছে ব্যাংক।’
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের চণ্ডীগড় শাখায় আর্থিক জালিয়াতি ধরা পড়ে। জানা যায়, হরিয়ানা সরকারের ৫৯০ কোটি টাকা গায়েব হয়ে গিয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সুদ সমেত পুরো টাকা উদ্ধার করা হয়।