


নিজস্ব প্রতিনিধি, রানিগঞ্জ: ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর রয়েছে জামুড়িয়া থানা এলাকার চাঁদা মোড়। চাঁদা মোড় থেকে দক্ষিণ দিকে নেমে গিয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এই রাস্তাই রতিবাটি পঞ্চায়েত এলাকার প্রধান সড়ক বলা চলে। রানিগঞ্জ ব্লকের অধীনে এই রাস্তার উপর রয়েছে চাপুই গ্রাম, খাস চাপুই কোলিয়ারি। হাজার হাজার সাধারণ মানুষ, শ্রমিকদের যাতায়াতের রাস্তা। এহেন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার বেহাল দশা।
রাস্তার উপর বহুদিন আগে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের পাইপ লাইন পাতা হয়েছিল। তারপর কোনও রকমে জোড়াতালি দিয়ে সংস্কার করার পর থেকেই করুণ দশা রাস্তাটির। ভাঙাচোরা রাস্তার উপর দিয়েই বইছে ড্রেনের জল। চাপুই অত্যন্ত বর্ধিষ্ণু গ্রাম। বহু মন্দির রয়েছে। ড্রেনের জল মারিয়েই মানুষকে পুজো দিতে যেতে হচ্ছে। এনিয়ে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছে এলাকায়। তেমনি কোলিয়ারি ঘিরে রয়েছে শাসকদলের প্রভাবশালী নেতাদের দাপট। রয়েছে বৃহৎ দলীয় কার্যালয়, তারপরও এলাকা উন্নয়নে গতি নেই। খাস চাপুই কোলিয়ারির সামনের রাস্তারও বেহাল দশা।
গ্রামের মূল রাস্তায় যখন উন্নয়নের বেহাল চিত্র, তখনই আবার উন্নয়নের জোয়ার দেখা গিয়েছে নতুন গড়ে ওঠা এলাকাগুলিতে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, হাতে গোনা কয়েকজন মানুষ বহু টাকা দিয়ে প্রমোটারের কাছ থেকে জমি কিনেছে। সেখানে প্রাসাদের মতো বাড়ি বানিয়েছে। কয়েকজন মানুষের জন্যই প্রশাসনের উদ্যোগে পুরু ঝা চকচকে ঢালাই রাস্তা গড়া হচ্ছে। অনেকের অভিযোগ রয়েছে, সেনাবাহিনীর জমিও এলাকায় বেপরোয়া ভাবে দখল করছে অসাধু কারবারিরা। সেখানেই করা হচ্ছে প্রমোটিং। পরে বাসিন্দাদের সামনে রেখে প্রশাসনিক মহলে প্রভাব খাটিয়ে সরকারি রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। এতে জমির দাম চড়চড়িয়ে বাড়ছে। রানিগঞ্জের সিপিএমের এরিয়া সম্পাদক সুপ্রিয় রায় বলেন, রতিবাটি পঞ্চায়েত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলি বেহাল। সেগুলির সংস্কার করা হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রমোটারদের সুবিধের জন্য নতুন এলাকাগুলি উন্নত রাস্তা করে সাজিয়ে দেওয়া হচ্ছে। জেলা পরিষদ এই রাস্তাগুলি করছে।
চাপুই গ্রামের বিজেপি নেত্রী চিন্তা রুইদাস বলেন, আমি রানিগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ ছিলাম। শাসকদলের এই সব অন্যায়ের প্রতিবাদ করায় চক্ষুশূল হয়েছিলাম। গ্রামের রাস্তার বেহাল দশা আর প্রমোটারদের সুবিধার জন্য রাস্তা তৈরি হচ্ছে। বিজেপির পক্ষ থেকে প্রতিবাদও জানিয়েছি।
জেলা সভাধিপতি বিশ্বনাথ বাউরি বলেন, গ্রামের রাস্তাটি সংস্কার করতে গেলেই কিছু মানুষ নানা অছিলায় কাজে বাধা দেয়। আমরা আর্জি করেছি এলাকাবাসী রাস্তা সংস্কারের জন্য আবেদন করুক। আমরা দ্রুত রাস্তা সংস্কার করব। মনে রাখতে হবে, কোনও এলাকায় বসতি গড়ে উঠলে রাস্তা, বিদ্যুৎ পৌঁছনো প্রশাসনের দায়িত্ব। সেই হিসাবেই নতুন এলাকায় রাস্তা গড়া হচ্ছে। কোনও ফাঁকা জায়গায় আমরা রাস্তা তৈরি করি না। সেনাবাহিনীর জমিতে কোনও রাস্তা তৈরি হয়নি। জেলা সভাধিপতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেও রানিগঞ্জ ব্লকের বিভিন্ন পঞ্চায়েতে রাস্তা তৈরি নিয়ে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। কোথাও অভিযোগ উঠেছে, প্রমোটারদের স্বার্থে ফাঁকা প্লটিং করা জমিতেই রাস্তা হয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার একটি বাড়ি নির্মাণ হলেই সেখানে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে রাস্তা তৈরি হচ্ছে। যে সব রাস্তার বহু মানুষ ব্যবহার করে তার সংস্কার হচ্ছে না।