নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: আগে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি চলত রাস্তার পাশে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। সম্প্রতি তৈরি হয়েছে নতুন অঙ্গনওয়াড়ি ভবন। কিন্তু রাস্তা থেকে সেই অনেকটা দূরে। তার উপরে সেখানে যাতায়াতের রাস্তায় এখনও পিচের প্রলেপ পড়েনি। এদিকে বৃষ্টিতে প্রায় একহাঁটু কাদা জমে। ভীষণ জোঁকের উপদ্রব। এমন পরিস্থিতিতে সেই কাদা টপকেই স্কুলে যেতে হচ্ছে খুদে পড়ুয়াদের। দুর্দশার এমন ছবি ধরা পড়েছে হাওড়ার জগৎবল্লভপুরের বড়গাছিয়া-১ পঞ্চায়েতের উত্তর সন্তোষপুরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নিজস্ব জমি ছেড়ে দিয়ে তাঁরা রাস্তা তৈরির অনুমতি দিয়েছেন। তারপরেও পঞ্চায়েতের গড়িমসিতে সেই কাজ হচ্ছে না।
বড়গাছিয়া-১ পঞ্চায়েতের উত্তর সন্তোষপুরে অবস্থিত এই ২৫১ নম্বর অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র। এলাকাটি মূলত হাওড়া ও হুগলি জেলার সীমান্তে পড়ে। সে কারণেই ছিট সন্তোষপুর অঙ্গনওয়াড়ি নামে পরিচিত কেন্দ্রটি। আগে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলত এই কেন্দ্র। আশেপাশের বহু গর্ভবতী মহিলা ও শিশু এই কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীল। ক্লাস করতে আসা খুদে পড়ুয়ার সংখ্যাও অনেক। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই স্থান সংকুলানের সমস্যা চলছিল। সেই সমস্যা মেটাতে ২০২০ সালে এমএসডিপি ফান্ডে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের নিজস্ব ভবনের কাজ শুরু হয়। ২০২২ সালে নতুন ভবনে উঠে আসে কেন্দ্রটি।
জায়গার সমস্যা মিটলেও শুরু হয় যাতায়াতের সমস্যা। অভিযোগ, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে বড় রাস্তা পর্যন্ত যেতে এখনও প্রায় ২০০ মিটার কাঁচা রাস্তাই ভরসা। বারবার স্থানীয়দের তরফে পঞ্চায়েতকে রাস্তাটি পাকা করার অনুরোধ জানালেও সেই কাজ হয়নি। বর্ষার সময় প্রায় এক হাঁটু কাদায় জোঁকের চরম উপদ্রব হয়। ফলে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে ক্লাস করতে আসা পড়ুয়ারা তীব্র সমস্যায় পড়ছে নিত্যদিন। কর্দমাক্ত পিছল রাস্তা দিয়ে গর্ভবতী মহিলারাও আসতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দা সত্যেন মজুমদার বলেন, মধ্য সন্তোষপুরের কালীতলা যাওয়ার মূল রাস্তায় যেতে গেলে এই কাঁচা রাস্তা পার করতে হয়। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বাদেও বেশ কয়েকটি পরিবার থাকে এখানে। অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তার তৈরির জন্য আমরা অনেকেই কিছুটা করে জমি ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পঞ্চায়েতকে বারবার জানিয়েও সমস্যা মিটছে না।
পঞ্চায়েত সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকাটি জগৎবল্লভপুর থানার অন্তর্গত হলেও দুই দিক হুগলির জাঙ্গিপাড়া ও চণ্ডীতলার মধ্যে পড়ে। কিছু বিষয়ে জট থাকায় ২০০ মিটার পাকা রাস্তা তৈরির অনুমোদন মিললেও তা এতদিন হয়ে উঠছিল না। তবে এবার সমস্যা মিটতে চলেছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। বড়গাছিয়া-১ পঞ্চায়েতের প্রধান পূজা হাজরা বলেন, রাস্তাটি পাকা করার জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে। দ্রুত রাস্তার কাজ শুরু হবে।