নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ এলাকাকে কলকাতা পুলিসের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে উল্টো ঘটনা! পথনিরাপত্তার স্বার্থে ট্রাফিক পুলিস ভাঙড়ের রাস্তায় যেসব রোড সাইনেজ, কনভেক্স আয়না বসিয়েছিল, সন্ধ্যা নামলেই তা গায়েব হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, রাতের অন্ধকারে তা বিক্রি হয়ে যাচ্ছে একেবারে লোহার দরে। সাধারণত, নীল-সাদা লোহার পাইপের উপর বসানো থাকে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সাঙ্কেতিক চিহ্ন। ইতিমধ্যে ভাঙড় ডিভিশনের সাতটি জায়গা থেকে এই ধরনের চুরির খবর এসেছে। প্রতি ক্ষেত্রেই সকালের দিকে সাইনেজ বা মিরর বসানো হলেও সিমেন্ট জমাট বাঁধার আগেই পোস্ট সহ সাইনেজ বা মিরর উধাও হয়ে গিয়েছে। এলাকাগুলি এখনও পর্যন্ত সিসি ক্যামেরার নজরদারির অন্তর্ভুক্ত নয়। তাই চোরেরাও অধরা!
ভাঙড়কে কলকাতা পুলিসের অধীনে আনার একটি অন্যতম কারণ ছিল বাসন্তী হাইওয়েতে দুর্ঘটনা কমানো। তাই প্রথমেই এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার হাল ফেরাতে তৎপর হয় পুলিস। পরপর রোড সাইনেজ বসানো হয় বাসন্তী হাইওয়েতে। এই সড়কের তীক্ষ্ণ বাঁকগুলিতে অতীতে একাধিক বড় দুর্ঘটনা ঘটেছে। কখনও বাস পড়ে গিয়েছে নয়ানজুলিতে, কখনও আবার লরির ধাক্কায় মৃত্যু হয়েছে বাইকচালকের। এই ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের তরফে রাস্তার বাঁকগুলিতে বসানো হয় কনভেক্স মিরর (উত্তল আয়না)। এর ফলে চালকদের সামনে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা কমে। সূত্রের খবর, বাসন্তী রাজ্য সড়কে লোহার পাইপ বসিয়ে তার উপরে ৬০টি ট্রাফিক সাইনেজ লাগানো হয়েছিল। এছাড়া, ভাঙড়, হাড়োয়া রোড ও সোনারপুর রোডে গাড়ির গতিবেগ, রাস্তার প্রকৃতি এবং ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ কর্মসূচি সম্পর্কে মানুষকে অবহিত করতে আরও ৪০টি সাইনেজ লাগানো হয়েছিল। সেগুলি একটি একটি করে চুরি করে নিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। এখনও পর্যন্ত গায়েব হয়ে গিয়েছে পাঁচটি রোড সাইনেজ। বৈরামপুর থেকে আরও দু’টি পাইপ তুলে নিয়ে গিয়েছে চোররা। চন্দনেশ্বর এলাকায় একটি বিপজ্জনক বাঁকে সবচেয়ে বড় কনভেক্স আয়না ইনস্টল করা হয়েছিল। সেটিও লোপাট হয়ে গিয়েছে।
ভাঙড় ডিভিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যে এই চুরি নিয়ে ভাঙড় ট্রাফিক গার্ডের তরফে চন্দননেশ্বর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিস। স্থানীয়দের একাংশের দাবি, এই এলাকায় চুরিহারির প্রকোপ আছে অনেক আগে থেকেই। কলকাতা পুলিসের এলাকায় আসার পরও পরিস্থিতি বদল হয়নি। বরং দুষ্কৃতীরা এবার সরকারি সম্পত্তির দিকেও হাত বাড়িয়েছে। কিছুদিন আগেই পোলেরহাট বাজার থেকে চুরি গিয়েছে টোটো ও বাইক। কাশীপুর থানা এলাকার একটি মুদি দোকানের তালা ভেঙে চাল, আটা, ডালের বস্তা হাপিস করে দিয়েছে চোরেরা। কলকাতা পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘পথ নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতেই রাস্তার পাশে রোড সাইনেজ এবং কনভেক্স মিররগুলি বসানো হয়েছে। সেটাও যদি চুরি হয়ে যায়, তা হলে ট্রাফিক ব্যবস্থা কীভাবে চলবে!’