নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: দীপাবলির আগেই ভিন্ন আলোর ছটা। বরেণ্য কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি সংস্কারের কাজ শুরু করল রাজ্য সরকার। হুগলির ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুর গ্রামে কথাশিল্পীর স্মৃতি বিজড়িত একাধিক স্মারককে বাঁচিয়ে রাখতে সংস্কারের পরিকল্পনা হয়েছিল। অবশেষে মঙ্গলবার থেকে সেই কাজ শুরু হয়েছে। রাজ্য পর্যটন দপ্তরের তরফে আগেই ১ কোটি ৮২ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, শুধু সংস্কার নয়, কিছু ক্ষেত্রে পুরনো কাঠামোকে নতুন করে গড়ে দেওয়া হবে। সীমানা প্রাচীর সহ সেখানকার সেমিনার হলের সংস্কার এবং বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও বদল আনা হবে। সব মিলিয়ে হুগলির ‘সম্পদ’কে চিরায়ু করে তোলার উদ্যোগে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না রাজ্য সরকার।
স্থানীয় অনেকেই এদিন সংস্কার কাজ দেখতে এসেছিলেন। দিনভরই ছোটখাট ভিড় দেখা গিয়েছে। স্থানীয় লোকজন শ্রমিকদের কাছে কাজের বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছেন। গোটা বিষয়টিতে উচ্ছ্বসিত প্রশাসনিক কর্তারা। হুগলি জেলা পরিষদের মেন্টর সুবীর মুখোপাধ্যায় বলেন, কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ভারতীয় ভাষা সাহিত্যের সম্পদ। বাংলার ওই মহাপ্রাণের একটি স্মারকচিহ্ন হুগলিতে থাকায় আমরা গর্বিত। কিন্তু আমাদের সেই গর্বের ধন, কথাশিল্পীর বসতবাড়ি ক্ষয়িষ্ণু হয়ে পড়েছিল। বিষয়টি রাজ্য সরকারের নজরে আনার পরে সরকারি বরাদ্দ মিলেছে। রাজ্য পর্যটন দপ্তর পর্যটনের বিকাশের একটি মডেল হিসেবে কথাশিল্পীর বসতভিটেকে গড়ে তুলতে চাইছে। সেই কাজ বাস্তবে রূপ পেতে শুরু করেছে। কথাশিল্পীর ভিটে সংস্কার নিয়ে খুশি হুগলির আঞ্চলিক ইতিহাস গবেষক প্রবীণ শ্যামল সিংহ। তিনি বলেন, হুগলির ঐশ্বর্য ওই বসতভিটে। কালের প্রকোপে তা ক্ষয়ে যাচ্ছিল। অনেক কিছু হারিয়েও গিয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত এটিকে মডেল পর্যটন কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত ও তা রূপায়ণের প্রয়াস প্রশংসনীয়। কথাশিল্পীর বাড়ি থেকে ব্যান্ডেল চার্চ, চুঁচুড়ার একাধিক ঐতিহাসিক স্মারককে ঘিরে পর্যটন সার্কিটের দাবি তুলেছিলেন অমিত রায়।
চুঁচুড়া পুরসভার চেয়ারম্যান অমিতবাবুও পর্যটন দপ্তরের ওই উদ্যোগে খুশি। তিনি বলেন, শরৎবাবুর ভিটে সংস্কার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। আমরা চাই এবার মডেল পর্যটন কেন্দ্রের সঙ্গে চুঁচুড়াকে জুড়ে দিয়ে সার্কিট তৈরির কাজ সম্পন্ন করা হোক।
ব্যান্ডেলের দেবানন্দপুরে জীবনের অনেকটা সময় কাটিয়েছিলেন কথাশিল্পী। তাঁর সৃষ্টির নানা প্রান্তে সেসব ইতিহাস ধরা আছে। আর সেই ধারাকথনের জীবন্ত স্মারক হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাঁর ব্যবহৃত বৈঠকখানা, দালান। অতীতে রাজ্য সরকারের তরফে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে এই সদ্য বিশ্বকর্মা পুজোর সময়ে কথাশিল্পীর বাড়িতে দু’দিনের বিশেষ উৎসব করা হয়েছিল। এবার স্মারকের স্থায়িত্ব রক্ষার কাজ শুরু হয়েছে। এক অকাল দীপাবলির আলোকছটা খুঁজে পাচ্ছেন সাহিত্য থেকে ইতিহাসপ্রেমীরা। -নিজস্ব চিত্র