


বেজিং: অপারেশন সিন্দুরের সময় ভারতের আকাশকে দুর্ভেদ্য করে রেখেছিল রাশিয়ার এস-৪০০ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। যার ফলে ভোঁতা হয়ে যায় পাক সেনার সব আক্রমণ। সেই সময় ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল রাশিয়ায় তৈরি সুখোই-৩০ এমকেআই যুদ্ধবিমানও। তাই অস্ত্রভাণ্ডার উন্নত করে তুলতে মস্কোর উপরেই ভরসা করতে চাইছে দিল্লি। সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) বৈঠকে অংশ নিতে চীনের বন্দর শহর কুয়িংডাওতে গিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। ওই বৈঠকের ফাঁকেই রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রে বেলুউসভের সঙ্গে বৈঠক করলেন রাজনাথ। সেখানে সুখোই-৩০ জেটগুলিকে আরও আধুনিক করে তোলা ও এস-৪০০ সিস্টেম নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে এই মূহূর্তে প্রায় ২৬০টি সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান রয়েছে। সেগুলিকে প্রযুক্তিগত দিক থেকে আরও উন্নত করে তোলার দিকে নজর দেওয়া হয়েছে। সেই বিষয়ে ভারতকে সাহায্য করবে রাশিয়া। ভারত আগেই রাশিয়ার থেকে পাঁচটি এস-৪০০ কেনার বরাত দিয়েছিল। তার তিনটি হাতে পেয়েছে দিল্লি। সেগুলিই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছিল। বাকি দুটিও যাতে দ্রুত ভারতের হাতে তুলে দেওয়া হয়, তার জন্য বৈঠকে সওয়াল করেন রাজনাথ। এছাড়া মস্কোর থেকে বায়ু থেকে বায়ু ক্ষেপণাস্ত্র কেনার বিষয়েও পরিকল্পনা শুরু করেছে দিল্লি।
রাশিয়ার পাশাপাশি চীনের প্রতিরক্ষানমন্ত্রী ডং জুনের সঙ্গেও বৈঠক করেন রাজনাথ। সীমান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক অতীতে বারবার সংঘাতে জড়িয়েছে ভারত-চীন। দুই দেশের মধ্যে যাবতীয় ‘জটিল সমস্যা’ মেটানোর জন্য প্রস্তাব চীনের মন্ত্রীকে প্রস্তাব দিয়েছেন রাজনাথ। এর জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির কথাও বলেছেন তিনি। বৈঠকে রাজনাথ জানান, ভারত তার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করতে আগ্রহী। এতে সব পক্ষই লাভবান হবে। ২০২০ সালে গালওয়ানে সংঘাতের জেরে দুই দেশের মধ্যে যে অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে, তা মুছে ফেলতে চায় ভারত। পরে রাজনাথ সমাজ মাধ্যমে লেখেন, ডংয়ের সঙ্গে গঠনমূলক আলোচনা হয়েছে।