


জয়পুর: চারবছর আগে বাগদান হয়ে গিয়েছিল। অপেক্ষা ছিল শুভক্ষণের। নানা টানাপোড়েনের পর শেষপর্যন্ত পাকিস্তানে পরিবার ও আত্মীয়দের নিয়ে বিয়ে করতে যাওয়ার ভিসা মিলেছিল। তারপরই রাজস্থানের শয়তান সিংয়ের সঙ্গে পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের কেসর কানওয়ারের বিয়ের দিন ঠিক হয়। আগামী ৩০ এপ্রিল চার হাত এক হওয়ার কথা। এজন্য হাতে সময় নিয়ে শনিবারই আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে বরযাত্রীদের নিয়ে পৌঁছে গিয়েছিলেন বর। কিন্তু ওপারে যাওয়া হল না। পহেলগাঁও হামলার জেরে ভারতীয়দের পাকিস্তানে যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সেজন্যই আটকে গেল বারাত। যদিও বারমেরের বাসিন্দা শয়তান সিংয়ের আশা, শীঘ্রই দুই দেশের এই সমস্যা মিটে যাবে। শুভদিনের আগেই তাঁরা সিন্ধ প্রদেশে পৌঁছবেন। কিন্তু পরিবারের আশঙ্কা কাটছে না। বিয়ে কি আটকে যাবে? এই প্রশ্নই কুরেকুরে খাচ্ছে তাঁদের।
একইভাবে বিপাকে পড়েছেন পাকিস্তানের সিন্ধ প্রদেশের এক বাসিন্দাও। তিনি চাইছেন, তাঁদের যেন ভারতে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়। পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার জেরে পাকিস্তানের নাগরিকদের দেশ ছাড়তে বলেছে ভারত। এই নির্দেশ ওই যুবকের সন্তানদের চিকিৎসার আশায় জল ঢেলেছে। সংবাদমাধ্যমকে ওই যুবক জানান, তাঁর নয় ও সাত বছরের দুই সন্তান বংশানুক্রমিক মারণ রোগে ভুগছে। ভারতে চিকিৎসার জন্য এসেছিলেন। এরইমধ্যে হঠাৎ করেই তাঁদের ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন। চিকিৎসা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের থাকতে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের কাছে আর্জি জানিয়েছেন ওই যুবক। তাঁর কথায়, এখানে আসা, থাকা-খাওয়া ও চিকিৎসা মিলিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় যদি ফিরে যেতে হয়, তাহলে হয়তো আর সন্তানদের বাঁচাতে পারবেন না। শয়তান এবং ওই পাক যুবকের মতো আটারি-ওয়াঘা সীমান্তে এখন কাতারে কাতারে মানুষের ভিড়। বিয়ে হোক বা চিকিৎসা, দুই দেশের বহু মানুষ সীমান্ত পেরিয়েছেন অনেক আশা নিয়ে। একযোগে তাঁরা সকলেই বলছেন, পহেলগাঁও কাণ্ডের কোনও ক্ষমা নেই। তবে তার জন্য সাধারণ পাক নাগরিকদের ফেরানোর বিষয়টি সরকারের আরও একবার বিবেচনা করা দরকার।
এদিকে পাকিস্তানের তরফে এক অফিসার জানান, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পাকিস্তান থেকে ১০৫ জন ভারতীয় দেশে ফিরে গিয়েছেন। একইভাবে ২৮ জন পাকিস্তানি দেশে ফিরেছেন।