Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নির্মীয়মাণ বাড়িতে আবশ্যিক কিউআর কোড, সব তথ্য মিলবে ‘অন স্পট’, বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুরসভার ভরসা প্রযুক্তি

গত বছর গার্ডেনরিচের বহুতল বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অবৈধ নির্মাণ রুখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। বিল্ডিং বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের তৎপরতাও বেড়েছে বহুলাংশে।

নির্মীয়মাণ বাড়িতে আবশ্যিক কিউআর কোড, সব তথ্য মিলবে ‘অন স্পট’, বেআইনি নির্মাণ রুখতে পুরসভার ভরসা প্রযুক্তি
  • ১১ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: গত বছর গার্ডেনরিচের বহুতল বিপর্যয় থেকে শিক্ষা নিয়ে অবৈধ নির্মাণ রুখতে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে কলকাতা পুরসভা। বিল্ডিং বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের তৎপরতাও বেড়েছে বহুলাংশে। এখানেই থেমে না থেকে ‘অন স্পট’ বেআইনি নির্মাণ চিহ্নিত করার অভিনব পদ্ধতি চালু করল তারা। মেয়র ফিরহাদ হাকিম আগেই জানিয়েছিলেন, প্রতিটি নির্মাণস্থলের সামনে ওই নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সম্বলিত বোর্ড লাগাতে হবে। সম্প্রতি পুরসভার তরফে এ সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, নির্মাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য (মালিক, প্রোমোটার বা ডেভেলপারের নাম, ঠিকানা বা প্রেমিসেস নম্বর, ক’টি তল হচ্ছে, মোট আয়তন ইত্যাদি) বোর্ডে লিখে নির্মীয়মাণ ভবনের গায়ে ঝোলানো বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে বোর্ডে রাখতে হবে একটি কিউ আর কোড। বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদনের সময় পুরসভা থেকে সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীকে ওই কিউ আর কোডটি দেওয়া হবে। সেই কোড স্ক্যান করলে সহজেই সামনে চলে আসবে ওই নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য। কেউ নিয়মের অন্যথা করলে সংশ্লিষ্ট নির্মাণকে বেআইনি বলে গণ্য করা হবে এবং পুরসভা কাজ বন্ধের নোটিস ধরাবে। 

Advertisement

শহরে বেআইনি নির্মাণ রুখতে ইতিমধ্যে ‘ডিজিটাল ওয়ার্ক ডায়েরি’ চালু করেছে পুরসভা। অফিসাররা এখন নিয়মিত প্রত্যেকটি রাস্তা, গলি ঘুরছেন ওয়ার্ড ধরে ধরে। কোথায় নির্মাণ হচ্ছে, কী ধরনের নির্মাণ হচ্ছে, যাবতীয় তথ্য ও ছবি তাঁরা ‘আপলোড’ করছেন ডিজিটাল ডায়েরিতে। এর ফলে বেআইনি নির্মাণ অনেকটাই বন্ধ করা গিয়েছে বলে দাবি পুরসভার। কিন্তু, কোনও নির্মাণ বৈধ না অবৈধ বা কতটা অংশ বৈধ—তা নির্মাণস্থলে দাঁড়িয়েই যাচাই করে নেওয়ার সুযোগ ছিল না। কিউ আর কোড সহ বোর্ড বসানো থাকলে সহজেই সেই কাজ করা যাবে। 
নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ঠিকানা বা প্রেমিসেস নম্বর, পশ্চিমবঙ্গ রেরা রেজিস্ট্রেশন নম্বর, প্ল্যানের অনুমোদন নম্বর ও তারিখ, জমির আয়তন এবং ক’টি তলের বিল্ডিং ইত্যাদি তথ্য বোর্ডে লিখতে হবে। সেই সঙ্গে থাকবে পুরসভার দেওয়া কিউ আর কোড, যা স্ক্যান করে ওই নির্মাণ সম্পর্কিত আরও ১৪টি তথ্য পাওয়া যাবে। শীর্ষ এক পুরকর্তা বলেন, ‘যতদিন নির্মাণ সম্পন্ন না হচ্ছে, ততদিন ওই বোর্ড লাগিয়ে রাখতে হবে। ছ’ফুট বাই চার ফুটের একটি টিনের বোর্ডে পুরসভার দেওয়া কিউ আর কোড এক ফুট বাই এক ফুট অংশে ‘ডিসপ্লে’ করতে হবে। আমাদের অফিসাররা যখন ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে ঘুরবেন, তখন ওই বোর্ড থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য পেয়ে যাবেন। সেক্ষেত্রে কোনও গলদ নজরে এলে সঙ্গে সঙ্গে কিউআর কোড স্ক্যান করে বিল্ডিং প্ল্যানের বিস্তারিত তথ্য জেনে নেওয়া যাবে। ‘অন স্পট’ অবৈধ নির্মাণ ধরা পড়বে সহজেই।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ