Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬

দু’দিনের ভারত সফরে পুতিন, প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে হাজির মোদি, ট্রাম্পকে বার্তা?

প্রথমে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিওরিটি সার্ভিস এজেন্টরা বিমান থেকে বেরিয়ে এলেন। টারম্যাকে নেমে তাঁরা পজিশন নিলেন সতর্ক হয়ে। তারপর মস্কোর ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস।

দু’দিনের ভারত সফরে পুতিন, প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরে হাজির মোদি, ট্রাম্পকে বার্তা?
  • ৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: প্রথমে রাশিয়ার ফেডারেল সিকিওরিটি সার্ভিস এজেন্টরা বিমান থেকে বেরিয়ে এলেন। টারম্যাকে নেমে তাঁরা পজিশন নিলেন সতর্ক হয়ে। তারপর মস্কোর ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস। তারাও বেরিয়ে এসে দ্বিতীয় বলয় তৈরি করল। এরপর কিছুক্ষণ বিমানের দরজা খোলা রইল। কয়েকদিন আগেই দিল্লি এসে পালাম বিমানবন্দর স্ক্রুটিনি করে নিয়েছিল রাশিয়ার ফরেন ইনটেলিজেন্স সার্ভিস। তারা আগে থেকেই উপস্থিত ছিল রানওয়ের অদূরে। সংকেত দিল ককপিটকে। অল ক্লিয়ার। ভারত ও রাশিয়ার সিকিওরিটি এজেন্সিগুলির পক্ষ থেকে এই বার্তা পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি গাড়ি থেকে বেরিয়ে টারম্যাকের সামনে। আর তখনই বেরিয়ে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। দ্রুত নেমে এসে পুতিন আলিঙ্গন করলেন মোদিকে। প্রোটোকল ভেঙে নরেন্দ্র মোদি নিজেই এয়ারপোর্টে গিয়ে স্বাগত জানালেন ভ্লাদিমির পুতিনকে। বস্তুত ভারত ও রাশিয়ার বন্ধুত্ব যে কতটা শক্তিশালী, সেই বার্তা বিশ্ববাসীকে দিতেই মোদির এই সিদ্ধান্ত। কারণ যে কোনও রাষ্ট্রনায়ককে বিমানবন্দরে সাধারণত আনুষ্ঠানিভাবে রিসিভ করার জন্য একজন মন্ত্রীকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। কূটনীতির পরিভাষায় যাঁকে আখ্যা দেওয়া হয় মিনিস্টার ইন ওয়েটিং। কিন্তু রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট যে কোনও রাষ্ট্রনায়ক নয়। রাশিয়া দীর্ঘকালের ভারতবন্ধু। আর ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে তো রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর করতে বদ্ধপরিকর ভারত। তাই মোদি নিজেই হাজির হলেন পালাম বিমানবন্দরে। পুতিনের বিমান রানওয়ে স্পর্শ করার পর টারম্যাকে বিছিয়ে দেওয়া হল লাল কার্পেট। সেখানেই শেষ হল না। মোদি ও পুতিন একই গাড়িতে চাপলেন। নির্দিষ্ট হোটেলে না গিয়ে চলে গেলেন সোজা মোদির বাসভবনে। অর্থাৎ দিল্লিতে পা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কার্যত পুতিনের ইনফর্মাল বৈঠক শুরু হয়ে গেল মোদির সঙ্গে।  সেই মিত্রতার সম্পর্কের বার্তা বিশেষ করে আমেরিকা ও পশ্চিমী দুনিয়াকে দিতে এদিন রাতে সম্পূর্ণ প্রাইভেট ডিনারে মোদি ও পুতিন মিলিত হলেন। আনুষ্ঠানিক নৈশভোজ নয়। ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নৈশভোজ। পুতিনকে রুশ ভাষায় লেখা গীতাও দিয়েছেন মোদি। সেকথা এক্স হ্যান্ডেলে জানান প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং। তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্টকে রুশ ভাষায় লেখা গীতা উপহার দিলাম। এই গীতার বাণীগুলি বিশ্বের অগণিত মানুষকে প্রেরণা দেয়।’ 

Advertisement

আজ দিনভর সামরিক, বাণিজ্যিক, সাংস্কৃতিক কর্মসূচি ও বৈঠকে যোগ দেবেন পুতিন। ভারতের সেনা, নৌবাহিনী এবং বায়ুসেনাকে সম্পূর্ণ নতুন এবং অত্যাধুনিক শক্তির সামরিক শক্তিতে পরিণত করার জন্য সবরকমভাবে রাশিয়া সাহায্য করবে। আগামী দিনে ভারতের সামরিক বাহিনীর সার্বিক বদল ঘটতে চলেছে। এই লক্ষ্য পূরণে যা করতে হয় রাশিয়া সবই করবে। রাশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুসোভ বৃহস্পতিবার এই মন্তব্য করেছেন রাজনাথ সিং এর সঙ্গে বৈঠকের পর।
রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০২১ সালে শেষবার এসেছিলেন ভারত। কিন্তু সে ছিল অন্য পৃথিবী। ঠিক পরের বছর ইউক্রেন যুদ্ধ বিশ্বকে বদলে দিল। রাশিয়া কার্যত একঘরে হয়ে যায়। বিশ্ব সমীকরণ নতুন পথে হাঁটতে শুরু করে। সেই বৃত্ত সম্পূর্ণ হয় রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড  ট্রাম্প আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ায়। কূটনৈতিক প্রটোকলের তোয়াক্কা না করে ট্রাম্প সম্পূর্ণ একতরফাভাবে শুল্ক যুদ্ধ শুরু করে দুনিয়াকে দুই ভাগে ভাগ করে দিলেন।  মার্কিন শিবির এবং রাশিয়া-চীন শিবির। এই নয়া ক্ষমতার মানচিত্রে সবথেকে তাৎপর্যপূর্ণ খেলোয়াড় ভারত। ভারতকে নানাবিধ উপায়ে কোণঠাসা করার চেষ্টা করছেন ট্রাম্প। কিন্তু দ্বিধা কাটিয়ে  সম্ভবত মোদির ভারত পূর্ণাঙ্গভাবে রাশিয়া শিবিরেই ঝুঁকেছেন। মোদি যাঁদের সবথেকে বেশি অপছন্দ করেন, সেই জওহরলাল নেহরু ও ইন্দিরা গান্ধীর দেখানো পথেই! অর্থাৎ গান্ধী-নেহরু পরিবারের মতোই মোদির কাছেও এখন আন্তর্জাতিক নীতির নাম- রাশিয়া ফার্স্ট! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ