


নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হোমে আত্মহত্যার চেষ্টা করা কিশোরের মৃত্যু জলপাইগুড়ি মেডিকেলের অধীন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে। শনিবার রাতে মৃত্যু হয় তার। ঘটনায় হোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে সরব মৃতের পরিবারের সদস্যরা। হোমে পাঠানোর আগে পুলিশ তেরো বছর বয়সি ওই কিশোরকে মারধর করে বলেও অভিযোগ মৃতের পরিজনদের। এনিয়ে রবিবার হোম ও মর্গ চত্বরে দফায় দফায় বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন তাঁরা। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সব জায়গাতেই মোতায়েন ছিল পুলিশ। ঘটনায় হোম কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসন ও চাইল্ড ওয়েলফেয়ার কমিটির তরফে। বিষয়টি মানবাধিকার কমিশনেরও নজরে এসেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।
কোতোয়ালি থানার আইসি সঞ্জয় দত্ত বলেন, আপাতত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিন মৃত ওই কিশোরের দেহের ময়নাতদন্ত হয়। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি আইসির।
এদিকে, জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে মৃতের পরিবার। ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়েছে তারা। মৃতের পরিবারের দাবি, শুক্রবার দুপুরে জলপাইগুড়ি স্টেশন লাগোয়া ২ নম্বর ঘুমটি এলাকা থেকে ওই কিশোরকে তুলে নিয়ে যায় পুলিশ। যদিও পুলিশের দাবি, মাদকাসক্ত অভিযোগে এলাকার মানুষই ছেলেটিকে তাদের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ তাকে নিয়ে এসে হোমে পাঠায়। মৃতের পরিজনদের দাবি, শুক্রবার রাতে তাঁরা কোতোয়ালি থানায় এসেছিলেন। তখন ছেলেটি থানাতেই ছিল। আবেদন জানানো সত্ত্বেও তাকে ছাড়া হয়নি। ফলে তাকে কখন হোমে পাঠানো হয়েছে, তাঁরা জানেন না।
জলপাইগুড়ির কোরক হোম সূত্রে খবর, শুক্রবার রাত ১২টা নাগাদ ওই কিশোরকে দিয়ে যায় পুলিশ। শনিবার সকালে ঘুম থেকে উঠে অন্য আবাসিকদের সঙ্গে টিফিনে পায়েস ও মুড়ি খায়। সবার সঙ্গে বসে চুল কাটায়। তারপর স্নান করতে বাথরুমে ঢুকে গলায় গামছার ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। বাথরুমের দরজা না খোলায় আবাসিকরা হোম কর্তৃপক্ষকে খবর দেয়। সঙ্গে সঙ্গে দরজা ভেঙে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় কিশোরকে। কোরক হোমের সুপার গৌতম দাস বলেন, প্রশাসনিক স্তরে যেখানে যা রিপোর্ট করার তা করা হয়েছে। এর বাইরে কিছু বলা সম্ভব নয়।
আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা কেন তাদের সঙ্গে সঙ্গে জানানো হল না, সেই প্রশ্নে এদিন মৃতের পরিবারের সদস্যরা কোরক হোমের সামনে বিক্ষোভ দেখান। হোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু তাদের হোমের ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। এনিয়ে হোম সুপারের বক্তব্য, কেউ কথা বলতে চাইলে নিশ্চয়ই আমি কথা বলব। কিন্তু আবাসিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় কিংবা তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়ে, হোমের ভিতরে এমন কোনো ঘটনা ঘটতে দেওয়া যাবে না।