


সংবাদদাতা, বোলপুর: পুলিস অফিসারকে ফোনে অনুব্রত মণ্ডলের হুমকি কাণ্ডে সরগরম বীরভূম। এনিয়েই ব্যস্ত রয়েছে পুলিস, প্রশাসন ও সংবাদ মাধ্যম। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শান্তিনিকেতনে অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত ‘আবাস’ বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল প্রোমোটাররা। গত ফেব্রুয়ারি মাসে বাড়িটি ভাঙা শুরু হয়। বিষয়টি জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রবীন্দ্র অনুরাগী, প্রবীণ আশ্রমিক সহ বিশ্বভারতীর প্রাক্তনীরা। জেলাশাসক বিধান রায় তদন্তের নির্দেশ দেন। এমনকী, ভাঙার কাজ বন্ধ করে গেটে তালা ঝুলিয়েছিল বোলপুর পুরসভা। পুরসভার চেয়ারম্যান ঐতিহ্য রক্ষায় অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারকে অনুরোধও করেছিলেন। তার প্রেক্ষিতে বাড়িটি অর্ধেক ভাঙা অবস্থাতেই পড়েছিল। কিন্তু, প্রশাসনের নজর এড়িয়ে সেই বাড়ির বাকি অংশ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় প্রশাসন সম্পূর্ণ অন্ধকারে।
প্রসঙ্গত, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাইপো অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্র অলকেন্দ্রনাথ ঠাকুর শান্তিনিকেতনে ‘আবাস’ বাড়িটি তৈরি করেন। অবনীন্দ্রনাথ এই বাড়িতে বেশ কিছুদিন কাটিয়েছিলেন। তাঁর নামেই ওই এলাকার নাম হয় অবনপল্লি। পরবর্তীতে অলকেন্দ্রনাথের পুত্র অমিতেন্দ্রনাথ ঠাকুরও এই বাড়িতে বসবাস করতেন। ব্যক্তিগত সম্পত্তি হলেও পুরসভা ঐতিহ্য নষ্ট করতে দেবে না বলে জানিয়েছিল। এমনকী, অবনীন্দ্রনাথের পরিবারকে বাড়িটি সংরক্ষণ করে ঐতিহ্য রক্ষার অনুরোধও জানিয়েছিলেন পুরসভার চেয়ারম্যান। তা সত্ত্বেও বাড়িটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলায় শান্তিনিকেতনের ঐতিহ্য রক্ষা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পর্ণা ঘোষ বলেন, পুরসভার অনুমোদন বা অনুমতির তোয়াক্কা না করে কীভাবে ভাঙা হল জানি না। আজ সোমবার, ইঞ্জিনিয়ার ও পুরসভার অন্যান্য আধিকারিকদের পরিদর্শনের নির্দেশ দিয়েছি। জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, খুব দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা। মহকুমা প্রশাসনকে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে বলেছি। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে সেব্যাপারে খুব শীঘ্রই তদন্ত শুরু হবে। নিজস্ব চিত্র