


মুম্বই: মালেগাঁও বিস্ফোরণ মামলায় প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর সহ সকলকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে এনআইএ’র বিশেষ আদালত। বিচারক এ কে লাহোতি জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের দু’বছর আগেই সাংসারিক জীবন পরিত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করেছিলেন। এদিনের রায়কে গেরুয়া তথা হিন্দুত্ববাদের জয় বলে উল্লেখ করেছেন প্রজ্ঞা সিং ঠাকুর তথা সাধ্বী প্রজ্ঞা। তাঁর কথায়, ‘পরিকল্পিতভাবেই এই তদন্ত শুরু হয়েছিল। প্রথম থেকেই সেকথা বারবার বলেছি। জিজ্ঞাসাবাদের নামে আমাকে ডেকে গ্রেপ্তার ও অকথ্য অত্যাচার করা হয়েছে। আমার সারাজীবন নষ্ট করে দিয়েছে। সাধকের জীবনযাপন করছিলাম। কিন্তু, আমাকেই অভিযুক্ত বানিয়ে দিয়েছিল। কেউ স্বেচ্ছায় আমার পাশে দাঁড়ায়নি। সন্ন্যাসী হওয়ার জন্যই এখনও বেঁচে আছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ষড়যন্ত্র করেই গেরুয়াকে অপমান করা হয়েছে। আজ, গেরুয়া জিতেছে। হিন্দুত্ব জিতে গিয়েছে। দোষীদের সাজা দেবেন ভগবান।’
এদিন রায় ঘোষণার সময় একাধিক বিষয় উল্লেখ করে এনআইএ’র বিশেষ আদালত। বিচারক এ কে লাহোতি জানিয়েছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সন্দেহের যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। কিন্তু, তাঁদের সাজা দেওয়ার মতো যথেষ্ট প্রমাণ মেলেনি। এমনকী, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত এলএমএল বাইকটি প্রজ্ঞার নামে কেনা বলে দাবি করেছিল মহারাষ্ট্রের অ্যান্টি-টেরোরিজম স্কোয়াড (এটিএস)। রায় ঘোষণার সময় তাও খণ্ডন করেছে আদালত। বিচারকের পর্যবেক্ষণ, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা ওই গাড়ির সম্পূর্ণ চেসিস নম্বর উদ্ধার করতে পারেনি। তাই বাইকটি যে প্রজ্ঞার সেব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।
অন্যদিকে, আর এক অভিযুক্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল প্রসাদ পুরোহিতের বিরুদ্ধেও ওঠা সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে আদালত। পুরোহিতের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, বিস্ফোরণের জন্য কাশ্মীর থেকে আরডিএক্স কিনেছিলেন তিনি। এক্ষেত্রেও এনআইএর বিশেষ আদালত জানিয়েছে, কাশ্মীর থেকে আরডিক্স কেনা বা বিস্ফোরণ তৈরিতে যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ পুরোহিতের বিরুদ্ধে মেলেনি। পাশাপাশি, মালেগাঁও বিস্ফোরণে অভিনব ভারত নামে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নাম জড়িয়েছিল। তাদের সঙ্গে জঙ্গি যোগের অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে কোর্ট।