


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: দেশের বৃহত্তম ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা চলে ডাক বিভাগের মাধ্যমে। পোস্ট অফিসের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ৬০ হাজার। প্রায় ৪০ কোটি নাগরিককে পরিষেবা দেয় এই ব্যাঙ্ক। এহেন বৃহদ কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সামনে এসেছে ডাক বিভাগের পাহাড় প্রমাণ ক্ষতির হিসেব। সম্প্রতি তাদের বার্ষিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, গত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে দপ্তরের ‘ক্ষতি’ বা আর্থিক ঘাটতির অঙ্ক প্রায় ২৪ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। নরেন্দ্র মোদির জমানা থেকে এই আর্থিক ক্ষতির অঙ্ক যোগ করলে, তা দেড় লক্ষ কোটিতে পৌঁছবে বলে জানাচ্ছেন দপ্তরের কর্তারা।
ডাক বিভাগ এখন মূলত পার্সেল ব্যবসা নির্ভর। চিঠিচাপাটি বিলির চিরাচরিত ব্যবসা এখন অনেকটাই টিমটিমে। অর্থমন্ত্রকের স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্প বিক্রি করার দরুন, তাদের থেকে কমিশন পায় ডাক বিভাগ। এটিও তাদের রোজগারের অন্যতম জায়গা। সেসব আর্থিক লেনদেনের পাশাপাশি আছে পোস্টাল জীবন বিমা। কিন্তু দিনের শেষে গ্রাহক কতটুকু পরিষেবা পান বা সেই পরিষেবায় আদৌ সন্তুষ্ট হন কি না, প্রশ্ন রয়েছে সর্বত্র। গ্রাহক মাত্রই জানেন, এখানে হয়রানি কতটা। সবটাই যে ডাক বিভাগের কর্মীদের কারণে হয়, তা নয়। পরিকাঠামোও এক্ষেত্রে বড় কারণ। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, আর্থিক লেনদেনের জন্য যেভাবে কোর ব্যাঙ্কিং সিস্টেম চালু করার কথা ছিল, তা আদৌ হয়নি। লিঙ্ক না থাকা এখনও ডাকবিভাগগুলিতে জীবন্ত সমস্যা। তার উপর কর্মী সংখ্যা কম হওয়া, পর্যাপ্ত ফর্ম, চেকবই না থাকা, প্রিন্টিং মেশিন না থাকা বা খারাপ থাকা প্রভৃতি রোগগুলি ক্রমশ জাঁকিয়ে বসছে প্রায় প্রতিটি ডাকঘরেই। পর্যাপ্ত কর্মী না থাকাও পরিষেবায় ঘাটতির অন্যতম বড় কারণ বলেই মনে করছেন অনেকেই। তার সঙ্গে গোদের উপর বিষফোঁড়ার মতো গ্রাহকদের ঝামেলায় ফেলছে নতুন প্রযুক্তি। অনলাইন লেনদেনকে আরও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে যে পরিষেবা চালু হওয়ার কথা ছিল চলতি মাস থেকে, তা গোড়াতেই মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার দায় চোকাতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ গ্রাহককে।
দপ্তরের কর্তারা বলছেন, এই দপ্তরের বৃহত্তম খরচ হয় কর্মীদের বেতন দিতে ও অফিস চালাতে। তার নিরিখে আয় অনেক কম। প্রশ্ন উঠছে, দিনের পর ডাকবিভাগকে ক্রমশ অকেজো করে দেওয়ার পিছনে কি সরকারের অন্য কোনও উদ্দেশ্য কাজ করছে? সত্যিই কি এত বড় পরিকাঠামোকে অন্য কোনও উপায়ে আর্থিকভাবে বাঁচানো সম্ভব নয়?