নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সামনেই রামনবমী ও ঈদ। ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মহলে অশান্তি পাকানোর ছক করা হচ্ছে বলে সতর্কবার্তা দিল পুলিস। মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দিয়ে গোলমাল ও বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি মারফত খবর পেয়েছে রাজ্য ও কলকাতা পুলিস। সেই মোতাবেক সাধারণ মানুষকে গুজব থেকে সতর্ক থাকার বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অশান্তির আঁচ পেলে, দ্রুত তা পুলিসকে জানানোর আর্জিও জানানো হয়েছে।
এই মর্মে শনিবার ভবানীভবনে বিশেষ সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করে রাজ্য পুলিস। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এডিজি (আইন-শৃঙ্খলা) জাভেদ শামিম ও এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) সুপ্রতিম সরকার। জাভেদ শামিম বলেন, ‘আমাদের সব ইউনিটকে সতর্ক থাকতে বলছি। যাতে কোনওরকম অশান্তিমূলক ঘটনা না ঘটে, জনসাধারণকেও সেই ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। সমাজমাধ্যম নির্ভর যুগে মাত্র একটি গুজব, বড় যেকোনও অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। তা খেয়াল রাখতে হবে।’ রাজ্য পুলিস সূত্রে খবর, বিভিন্ন জায়গায় এমন কিছু পোস্টার বা প্ল্যাকার্ড লাগানোর কথা আমরা জানতে পেরেছি, যাতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বিদ্বেষ, শত্রুতার বাতাবরণ তৈরি হয়। এমন কিছু পরিকল্পনা ও কাজের কথাও জানতে পেরেছি, যাতে সাম্প্রদায়িক শান্তি নষ্ট হতে পারে। এ নিয়ে তদন্তও শুরু হয়েছে।
হাওড়া গ্রামীণ পুলিসের সুপার সুবিমল পাল জানিয়েছেন, স্থানীয় দুই বিজেপি নেতার নামে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করেছে শ্যামপুর থানার পুলিস। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই বিজেপি নেতা হল কৌশিক চক্রবর্তী এবং তুষারকান্তি মাল। শনিবার সন্ধ্যায় তাঁদের শ্যামপুর থানায় ডেকে পাঠানো হয়। এদিন বিজেপি নেতা কৌশিক চক্রবর্তীর দাবি, ‘পুলিসকে আমাদের পিছনে লাগিয়ে রাজনৈতিক চক্রান্ত চলছে। এর পাশাপাশি আগামী ৭ এপ্রিল শ্যামপুরে দলীয় সভা আছে। সেই সভা বানচাল করতেই এই মিথ্যা অভিযোগ।’ অন্যদিকে, কলকাতা পুলিসের তরফে সিপি মনোজ কুমার ভার্মা বলেন, ‘আমরা তৈরি আছি। সবদিকে নজর রাখা হচ্ছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে ‘মিথ্যাখবর’ও ছড়িয়ে দেওয়া হতে পারে সমাজমাধমে, সেই ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে শহরবাসীকে।’