


পাটনা: প্রথমে ব্যবসায়ী, তারপর শিক্ষক, আইনজীবী সহ পাঁচজনকে পরপর খুন আগেই ভোটমুখী বিহারের আইনশৃঙ্খলা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। তবে বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ঢুকে রোগীকে খুনের ঘটনা সবকিছু ছাপিয়ে গিয়েছে। পাটনার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুন হয়েছে গ্যাংস্টার চন্দন মিশ্র। ডজন খানেক খুনের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্যারোলে মুক্তি পেয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি ছিল চন্দন। কিন্তু সেই হাসপাতালে ঢুকেই তাকে যেভাবে খুন করা হয়েছে তা রীতিমতো ভয়ঙ্কর। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা গিয়েছে, বিনা বাধায় হাসপাতালে ঢুকে চন্দনকে গুলি করে হত্যা করছে দুষ্কৃতীর দল। তার আগে বাইরে দাঁড়িয়ে খুনের পরিকল্পনা করে তারা। খুনের পর নির্ভয়ে বেরিয়েও এসে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে বাইকে চড়ে উল্লাসও করছে দুষ্কৃতীরা।
দুষ্কৃতীদের ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা গিয়েছে সামনে এসেছে দলের পাণ্ডা তথা তৌসিফ বাদশাহ-র পরিচয়। জানা গিয়েছে, বিহারের এই দুষ্কৃতী ফুলয়ারি শরিফের বাসিন্দা। বাবা ব্যবসায়ী, মা শিক্ষিকা। ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করেছে তৌসিফ। তবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে অপরাধ জগতেই। পুলিসের দাবি, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই একাধিক অভিযোগ রয়েছে। অস্ত্র আইনে মামলা চলছে। এছাড়া সুপারি কিলার হিসেবেও কাজ করত তৌসিফ। পরবর্তীকালে নিজেরই দল তৈরি করে। মূলত অল্পবয়সী ছেলেদের লোভ দেখিয়ে দলে টানত তৌসিফ। তবে হাসপাতালে যে খুন তৌসিফ করেছে তার নেপথ্যে অন্য কারণ রয়েছে। বিষয়টা পুরনো শত্রুতার জের। তবে তৌসিফের সঙ্গে সরাসরি শত্রুতা ছিল না মৃত চন্দনের। একসময় চন্দন কাজ করত বিহারের এক দুষ্কৃতী দল শেরু গ্যাং-এ। পরে নিজের দল গড়ে। তাতে মোটেও খুশি হয়নি শেরু গ্যাং। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শত্রুতা বাড়ে। অনুমান, শেরু গ্যাং-এর হয়েই চন্দনকে খুন করেছে তৌসিফ।