নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: রাতের অন্ধকারে হাওড়া-আমতা রোডে টলতে টলতে হাঁটছিলেন এক তরুণী। আচরণে অস্বাভাবিকতা থাকায় পথচলতি এক যুবকের নজরে আসে বিষয়টি। খবর পেয়ে তৎপরতা দেখান কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মীরা। শেষ পর্যন্ত ওই অসুস্থ তরুণীকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে ভরতি করে ব্যাঁটরা থানার পুলিশ। শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা চলছিল। কেন তিনি টলতে টলতে ওভাবে রাস্তা দিয়ে একাকী হাঁটছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাত সওয়া ৯টা নাগাদ ঘটনাটি ঘটে। দাশনগর স্টেশনের দিক থেকে শানপুরের দিকে হাওড়া-আমতা রোড ধরে হাঁটছিলেন বছর আঠারোর ওই তরুণী। তাঁর পরনে ছিল শার্ট-প্যান্ট, তবে পায়ে জুতো ছিল না। রাস্তার মাঝখান দিয়ে অপ্রকৃত অবস্থায় তিনি হাঁটছিলেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি। এই দৃশ্য প্রথমে লক্ষ্য করেন বাইক আরোহী এক যুবক। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক মনে হওয়ায় তিনি দ্রুত শানপুর মোড়ে কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশকে বিষয়টি জানান। তখন সেখানে দায়িত্বে ছিলেন ট্রাফিক হোমগার্ড চন্দন সাউ। খবর পেয়ে তিনি কিছুটা দূরে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে ট্রাফিক আউটপোস্টে নিয়ে আসেন। চন্দন সাউ বলেন, তরুণীকে দেখে তখন বেশ অস্বাভাবিক বলে মনে হয়েছে। তিনি সম্পূর্ণ ঘোরের মধ্যে ছিলেন। নিজের নাম বা বাড়ির ঠিকানা কিছুই স্পষ্ট করে বলতে পারছিলেন না। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়। এরপর ব্যাঁটরা থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তরুণীকে উদ্ধার করে হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ওই তরুণীর বাড়ি দাশনগর এলাকায়। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। তবে কী কারণে তিনি ওই অবস্থায় গভীর রাতে একা রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, তা এখনও স্পষ্ট হয়নি। ঘটনার নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত তরুণী হাওড়া জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে ব্যাঁটরা থানার পুলিশ।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরে নারী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গভীর রাতে কেন ওই তরুণী আচ্ছন্ন অবস্থায় রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, তাঁকে কেউ মাদক জাতীয় কিছু খাইয়েছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলতে পারেনি পুলিশ। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের বক্তব্য, শৈলেন মান্না সরণি দিয়ে রাতের দিকে নিয়মিত ভারী পণ্যবাহী লরি যাতায়াত করে। ওই পরিস্থিতিতে তরুণীর বড়ো ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও তৈরি হতে পারত।