নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: কলকাতার হোটেলে ব্যবস্থা করা হয়েছিল পরীক্ষার। একেবারে আসল পরীক্ষার ধাঁচে প্রশ্নের সঙ্গে ছিল ওএমআর শিট। এরপর জাল ওয়েবসাইটে সেই পরীক্ষার রেজাল্ট বের করা হয়। ইন্টারভিউ থেকে নিয়োগপত্র— সবকিছুই দেওয়া হয়েছিল চাকরিপ্রার্থীকে। শেষমেশ ওই নিয়োগপত্র নিয়ে রেলের চাকরিতে যোগ দিতে গিয়ে দুই যুবক জানতে পারলেন গোটাটাই ভুয়ো। প্রতারণার শিকার হয়েছেন তাঁরা। শেষ পর্যন্ত এই প্রতারণা চক্রের অন্যতম পান্ডা অমিত কুমারকে গ্রেপ্তার করল নিউ মার্কেট থানা। তাকে জেরা করে চক্রের বাকি সদস্যদের খোঁজ চলছে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বাসিন্দা এক যুবক অনেকদিন ধরেই সরকারি চাকরির খোঁজ করছিলেন। বেশকিছু প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাও দিয়েছিলেন তিনি। দিল্লিতে একটি পরীক্ষা দিতে গিয়ে অমিতের সঙ্গে আলাপ হয় তাঁর। অমিত জানায়, রেলে সিগন্যাল ম্যান পোস্টে প্রচুর নিয়োগ হবে। তার সঙ্গে রেলে নিয়োগের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের যোগাযোগ রয়েছে। তাঁরাই বলেছেন, বেকার যুবক-যুবতী থাকলে নিয়ে আসতে। চাকরি হয়ে যাবে। পরীক্ষা, ইন্টারভিউ সবই হবে— তবে তা কেবল নাম কা ওয়াস্তে। এরজন্য দিতে হবে পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা। তাতে রাজি হন ওই চাকরিপ্রার্থী। এরপর তাঁকে বলা হয়, তাঁর পরিচিত যুবক বা যুবতীদের নিয়ে এলে তাঁদেরও চাকরির ব্যবস্থা হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে তাঁর টাকার অঙ্ক কিছুটা কমবে। সেইমতো অভিযোগকারী তাঁর এক ভাইয়ের জন্য টাকা দেন। এভাবে বেশ কয়েকজনকে তিনি জোগাড়ও করেন। নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে তাঁদের পরীক্ষা নেওয়া হয়। বলা হয়, আলাদা করে পরীক্ষা নেওয়ার কারণ হল, এই খাতা সরাসরি নিয়োগের দায়িত্বে থাকা অফিসারদের কাছে পাঠানো হবে। প্রশ্নপত্রের পাশাপাশি ওএমআর শিটেরও ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কয়েকদিন পর তাঁদের বলা হয়, রেলের ওয়েবসাইটে রেজাল্ট দেখতে। সেইমতো দু’জন দেখেন, তাঁদের নাম রয়েছে সেখানে। এরপর ইন্টারভিউ ও অন্যান্য কাজ হয়ে গেলে নিয়োগপত্র পাঠানো হয়। সেই নিয়োগপত্রে স্পষ্ট লেখা, ভুবনেশ্বরে সিগন্যাল ম্যানের পদে চাকরিতে যোগ দিতে হবে। সেই নিয়োগপত্র নিয়ে তাঁরা কাজে যোগ দিতে গিয়ে জানতে পারেন, সবটাই ভুয়ো। এরপর আরও কয়েকজনকে রেলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে অভিযুক্ত অমিত কুমারকে শনিবার নিউ মার্কেট এলাকায় ডেকে পাঠান অভিযোগকারী। ওই টোপে পা দিয়ে অমিত সেখানে এলে তাকে মারধর করে পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়। প্রতারিতদের অভিযোগের ভিত্তিতে অমিতকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। জানা গিয়েছে, সে চক্র গড়ে এই প্রতারণা চক্র চালাচ্ছে। কতজন তার টোপে পা দিয়ে ঠকেছেন, তা জানার চেষ্টা হচ্ছে।