নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল খরচে সময়সীমা বেঁধে দিল হুগলি জেলা প্রশাসন। প্রাপ্ত তহবিল থেকে যাতে ৮৫ শতাংশ অর্থ দ্রুত খরচ হয়, তারজন্য বিডিওদের চিঠি পাঠিয়েছেন জেলা পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন আধিকারিক। কোন কোন পঞ্চায়েত পিছিয়ে রয়েছে তার তালিকা তৈরি করেও বিডিওদের জানিয়েছে গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। শীঘ্রই দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পাবে ত্রিস্তর পঞ্চায়েত। তার আগে প্রথম কিস্তির টাকা খরচ করে পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দেওয়াই লক্ষ্য প্রশাসনের। তাছাড়া আগামী বছরই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। ফলে ভোটের আগে কাজ শেষ করতে তৎপরতা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। হুগলির ডিপিআরডিও পার্থ কর্মকার বলেন, জেলাশাসকের নির্দেশমতো গ্রামোন্নয়নের কাজে সারা বছরই জোর দেওয়া হচ্ছে। তহবিল খরচের নিরিখে রাজ্যের প্রথম দশ স্থানের মধ্যেই রয়েছে হুগলি জেলা। তাই সেই স্থান ধরে রাখার পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া পঞ্চায়েতগুলি যাতে দ্রুত কাজ শেষ করে তার জন্য আমরা চেষ্টা করছি। আশা করছি, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়ে যাবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, আরামবাগ মহকুমার একাধিক পঞ্চায়েত পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের তহবিল খরচে পিছিয়ে রয়েছে। জেলা গ্রামোন্নয়ন দপ্তর আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে গড় ৮৫ শতাংশ অর্থ খরচের সময়সীমা দিয়েছে। বর্তমানে কোন পঞ্চায়েতের কেমন অবস্থান তাও স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। টাকা খরচে পিছিয়ে রয়েছে তৃণমূল ও বিজেপি উভয় দলের পরিচালিত পঞ্চায়েতই। ১১ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাওয়া রিপোর্ট অনুযায়ী দেখা গিয়েছে, গোঘাট-২ ব্লকের বদনগঞ্জ ফলুই-১ পঞ্চায়েত এখনও পর্যন্ত ৫২.২৫ শতাংশ তহবিল খরচ করতে পেরেছে। খানাকুল-২ ব্লকের মারোখানা পঞ্চায়েত ৫৪.৩২ শতাংশ, খানাকুল-১এর কিশোরপুর-১ পঞ্চায়েত ৫৫.৪২ শতাংশ সহ মহকুমার অন্যান্য পঞ্চায়েতগুলি ৬০ থেকে ৮৪ শতাংশ তহবিল খরচ করতে পেরেছে। প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, প্রত্যেক সপ্তাহে পিছিয়ে পড়া পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতিকে নিয়ে বৈঠক করা হচ্ছে। প্রশাসনিক কোনও সমস্যা রয়েছে কি না, তা খোঁজ নিয়ে সমাধান করা হচ্ছে। দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ঢোকার আগে প্রকল্পের পরিকল্পনা তৈরি করার প্রস্তুতিও নিতে বলা হয়েছে। তবে কোথাও কোথাও রাজনৈতিক জটিলতাও রয়েছে বলে অভিযোগ। বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বিমান ঘোষ বলেন, তৃণমূল পরিচালিত পঞ্চায়েতে উন্নয়নের কাজ হয়নি। সেখানে নেতাদের উন্নয়ন হচ্ছে। আমাদের পঞ্চায়েতগুলিতে অনেক সময় কাজে বাধার সৃষ্টি করছে তৃণমূলই। সেই জন্য সমস্যা হচ্ছে। তবু আমরা বলেছি প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও উন্নয়নের কাজে যেন কোনও প্রভাব না পড়ে। তৃণমূলের আরামবাগ সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান স্বপন নন্দী বলেন, বিজেপির অভিযোগ মিথ্যা। তাদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব প্রকট থাকায় নিজেরাই কাজে বাধা দিচ্ছে। আমাদের পঞ্চায়েতে মানুষ পর্যাপ্ত পরিষেবা পাচ্ছে। যে সমস্ত পঞ্চায়েত এখনও পর্যন্ত পিছিয়ে আছে, প্রশাসনের নির্দেশ মেনে তারা কাজ করছে।



