


ওয়াশিংটন: একাধিক যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তালিকায় রয়েছে ভারত-পাক সংঘাতও। বারবার নিজেকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের অন্যতম দাবিদার বলেছেন। পাকিস্তান সহ একাধিক দেশ তাঁকে এই সম্মানে ভূষিত করার প্রস্তাব দিয়েছে। আজ শুক্রবার, শান্তি পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা করবে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি। তার আগে বৃহস্পতিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি তাৎপর্যপূর্ণ ছবি পোস্ট করল হোয়াইট হাউস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই ছবিতে বড় করে লেখা— ‘দ্য পিস প্রেসিডেন্ট’। অর্থাৎ, শান্তির প্রেসিডেন্ট। প্রথমবার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরেও ট্রাম্পকে এই পুরস্কার দেওয়ার প্রস্তাব গিয়েছিল নোবেল কমিটির কাছে। তখন শিকে ছেঁড়েনি। এবার কি তাহলে ভাগ্য ঘুরবে? অধীর অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে সাতটি যুদ্ধ থামানোর দাবি করেছেন। শীঘ্রই সংখ্যাটা বদলে আট হতে পারে। কারণ, মিশরে আলোচনার পর প্রথম পর্যায়ে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে ইজরায়েল-হামাস। নিজেই সেকথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। নোবেল পাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বুধবার হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন এক সাংবাদিক। উত্তরে তিনি বলেন. ‘আমার কোনও ধারণা নেই। আমরা সাতটি যুদ্ধ থামিয়েছি। এবিষয়ে আপনাকে আরও তথ্য দিতে পারবেন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও। শীঘ্রই আমরা আট নম্বর যুদ্ধ থামাতে চলেছি। আশা করি, রাশিয়ার পরিস্থিতিও সামাল দিতে পারব। ইতিহাসে কেউ এতো যুদ্ধ থামিয়েছে বলে মনে হয় না।’ এত কিছুর পরেও অবশ্য নোবেল পুরস্কার পাওয়া নিয়ে আশাবাদী নন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কার্যত হতাশার সুরে তিনি বলেন, ‘হয়তো ওরা (নোবেল কমিটি) আমায় পুরস্কার না দেওয়ার একটা কারণ ঠিক খুঁজে নেবে।’ সম্প্রতি তিনি এও দাবি করেছিলেন, ‘আমার একাধিকবার শান্তিতে নোবেল পাওয়া উচিত।’ প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ট্রাম্প। তবে এত কিছু সত্ত্বেও হয়তো নোবেল পাবেন না ট্রাম্প। নেপথ্যে বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে অবজ্ঞা সহ একাধিক কারণ কাজ করতে পারে বলে জানাচ্ছে বিশেষজ্ঞ মহল। ঐতিহাসিক থিও জেনৌ বলেন, ‘সাময়িকভাবে যুদ্ধ থামানো আর সংঘাতের বীজ উপড়ে ফেলার মধ্যে অনেক তফাত রয়েছে। আমার মনে হয় না জলবায়ু পরিবর্তনে অবিশ্বাসী এক ব্যক্তিকে এই পুরস্কার দেওয়া হবে।’