সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: ফরাক্কার ধুলিয়ান হাই মাদ্রাসা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অফিসে তালাবন্ধ করে বিক্ষোভ দেখায় অভিভাবকরা। বুধবার দুপুরের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়ায়। বিগত প্রায় আট বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সঠিকভাবে স্কুল পরিচালিত হচ্ছে না। পঠনপাঠন শিকেয় উঠেছে। স্কুলে প্রধান ও সহকারী শিক্ষক নিয়োগ আটকে রাখা সহ মিড ডে মিলে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। যদিও অভিভাবকদের সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। জঙ্গিপুর মহকুমা স্কুল পরিদর্শক(মাধ্যমিক) সন্দীপ কোড়া বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে জবাবদিহি করতে বলা হয়েছে। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে পারে না। ফরাক্কার বিধায়ক মনিরুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক না থাকায় স্কুলে সমস্যা হচ্ছে। পঠনপাঠনে যাতে ক্ষতি না হয়, সেবিষয়ে শিক্ষকদের নজর দিতে বলব।
জানা গিয়েছে, এদিন দুপুরে স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বাইজিদ হোসেন স্কুলে আসেন। কিছুক্ষণ পরেই শতাধিক অভিভাবক স্কুলে এসে হাজির হন। তারপরই তাঁরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে অফিসে তালাবন্ধ করে দেন। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে তাঁকে ঘরে বন্দি করে রাখা হয়। ওই অবস্থাতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে স্কুলের শূন্যপদ জানাতে বাধ্য করা হয়। ইমেল মারফত তিনি শিক্ষাদপ্তরে শূন্যপদের সংখ্যা জানান। টিআইসি পদে থাককালীনই তিনি বছরের পর বছর প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক ও নন-টিচিং স্টাফের ভ্যাকেন্সি তালিকা শিক্ষাদপ্তরে জানাননি বলে অভিযোগ। এদিকে, প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ ফাঁকা থাকায় স্কুল পরিচালনা থেকে পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে বলে দাবি। স্কুলে প্রায় চার হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। অধিকাংশই স্কুলে আসে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছাত্র উপস্থিতি বাড়িয়ে মিড ডে মিলে দুর্নীতি করছেন বলে শিক্ষকদের দাবি। স্কুলের এক সহকারী শিক্ষক বলেন, প্রধান শিক্ষক সহ সহকারী শিক্ষক ও অন্যান্য পোস্টের ভ্যাকেন্সি তালিকা জমা দেওয়ার নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গিয়েছে। তবুও তিনি সেই তালিকা জমা করেননি। স্কুলে ৬৭জন শিক্ষকের আসন ফাঁকা রয়েছে। মিড ডে মিলে অনিয়ম করতে পারবেন বলেই তিনি প্রধান শিক্ষককে আসতে দিচ্ছেন না। অভিভাবক জাহিরুল ইসলাম বলেন, ক’বছর ধরে স্কুলে প্রধান শিক্ষক নেই। পঠনপাঠনও তেমন ভালো হয় না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এই পদে বসার যোগ্য নয়। এই মাদ্রাসাটির একসময় প্রচুর সুনাম ছিল। এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কারণে তা নষ্ট হতে বসেছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বলেন, আমি নিয়ম মেনেই স্কুল পরিচালনা করে থাকি। আসল কথা হল, স্কুলে নিয়ম-শৃঙ্খলা কঠোর করায় কয়েকজন শিক্ষক এসব মিথ্যা অভিযোগ তুলছেন।