


নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিস্ফোরক এবং বেফাঁস। দুই বিবৃতি-প্রবণতা ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে যেন জড়িয়ে রয়েছে। মার্কিন কংগ্রেসের ভাষণে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট পুনরায় এরকমই এক বেফাঁস ও বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বিগত মাসগুলির মতোই এদিনও তিনি নিজের কৃতিত্ব দাবি করে বলেছেন, তিনি একা হাতে বিশ্বের ৯টি যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছেন। সেই তালিকায় রয়েছে যথারীতি ভারত ও পাকিস্তান। এদিন ট্রাম্প নিজের স্তুতি নিজেই করতে গিয়ে বলে ফেলেছেন যে, সাড়ে তিন কোটি মানুষ আমাকে বলেছে আমি যদি ভারত ও পাকিস্তানের যুদ্ধ বন্ধ না করতাম, তাহলে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মৃত্যু পর্যন্ত হত। কারণ, ভারত ও পাকিস্তানের ওই যুদ্ধ পরমাণু সংঘাতের দিকে অগ্রসর হচ্ছিল। ট্রাম্পের এই মন্তব্য গোটা দুনিয়ায় ঝড় তোলে বুধবার। বিস্ময়ের পাশাপাশি বিদ্রুপেরও জোয়ারে ভেসে যায় সোস্যাল মিডিয়া। কারণ, কিছুক্ষণের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আসলে ট্রাম্প বলতে চেয়েছিলেন, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, আমি যদি ওই যুদ্ধ না থামাতাম, তাহলে সাড়ে ৩ কোটি মানুষের মৃত্যু হত। আর কংগ্রেসের সরাসরি সম্প্রচার ভাষণে ট্রাম্প বলে ফেলেছেন ঠিক উলটো কথা।
ট্রাম্পের এদিনের মন্তব্য নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে হোয়াইট হাউস। কংগ্রেসের ভাষণের পর হোয়াইট হাউস মুখপাত্র বিষয়টি স্পষ্টও করে দেন। কিন্তু নিছক সোশ্যাল মিডিয়া নয়, এই সুযোগকে কাজে লাগাতে বিরোধী ডেমোক্রাটরাও বলতে শুরু করেছে যে, এবার ট্রাম্পের মধ্যে বয়সোচিত ভ্রান্তি ধরা পড়তে শুরু করেছে। প্রশ্ন উঠছে, ঠিক যে অভিযোগে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে প্রতিদিন বিদ্ধ করতেন ট্রাম্প, সেই একই মানসিক ভ্রান্তির শিকার তিনি নিজেই। এই প্রচার এবার বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের জন্য ট্রাম্পের এই বেফাঁস মন্তব্য যথেষ্ট সহায়ক। কারণ, ট্রাম্প প্রথম প্রথম এই যুদ্ধ থামিয়ে দেওয়ার দাবি করেছেন যখন, তখন সেটি ভারতের জন্য ছিল অস্বস্তিকর। কিন্তু বিগত মাসগুলিতে শতাধিকবার ট্রাম্প একই দাবি করে চলায় ক্রমেই বিশ্বজুড়ে তাঁর এই দাবিগুলির ধার কমে গিয়েছে। আর এবার যেহেতু সম্পূর্ণ আজগুবি মন্তব্য করে ফেললেন, তাই এই দাবিগুলিকে আর গুরুত্বই দিচ্ছে না কেউ।