


ইসলামাবাদ: মাঝরাতে ব্যাপক বিস্ফোরণ। মুহূর্তে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হল পাকিস্তানের পাখতুনখোয়া প্রদেশের মাত্রে দারা গ্রাম। সংবাদ সংস্থার দাবি, অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের তলায় চাপা পড়ে আছেন অনেকেই। তাই মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। কী কারণে বিস্ফোরণ তা নিয়ে শুরু হয়েছে চাপানউতোর। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, পাক সেনাই নিজেদের দেশে বিমান হামলা চালিয়েছে। যদিও সে দেশের প্রশাসন এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, ওই অঞ্চলে জঙ্গিদের ডেরায় থাকা বিস্ফোরক ফেটেই এমন বিপত্তি।
আফিগানিস্তান সীমান্তের এই গ্রামে বিগত কয়েক মাসে একাধিকবার জঙ্গি হামলা হয়েছে। পাখতুনখোয়া পুলিশের দাবি, এ বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট অবধি মোট ৬০৫টি জঙ্গিহামলায় মৃত্যু হয়েছে অন্তত ১৩৮ জনের। প্রাণ হারিয়েছেন ৮০ জন পুলিশ আধিকারিক। জঙ্গি দমনে এই এলাকায় আগেও অভিযান চালিয়েছে পাকসেনা। রবিবারের বিস্ফোরণেও তাই উঠে এসেছিল সেনা অভিযানের দাবি। জানা গিয়েছে, ওই অঞ্চলে রাত ২টো নাগাদ চীনের জে-১৭ যুদ্ধবিমান থেকে আটটি এলএস-সিক্স বোমা ফেলে পাকসেনা। সঙ্গে সঙ্গে প্রবল বিস্ফোরণে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় গোটা গ্রাম। বিষয়টা নিয়ে সরব হয় পাকিস্তানের প্রধান বিরোধী দল তেহরিক-ই-ইনসাফ। তবে পাক প্রশাসন এই অভিযোগকে গুজব বলেই উড়িয়েছে। শরিফ সরকারের দাবি, ‘পাকসেনা কোনও বিমান হামলা চালায়নি। বিস্ফোরণের নেপথ্যে রয়েছে সন্ত্রাসবাদীরা।’ প্রশাসনের দাবি, ওই এলাকা জঙ্গিদের ঘাঁটি। এখানে আইইডি তৈরি করা হতো। তাই ব্যাপক বিস্ফোরক মজুত ছিল। সেগুলি আচমকা ফেটে গিয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনায় ১০ জন সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। নিকেশ হয়েছে ১৪জন জঙ্গি। তবে ওই এলাকার মানুষজনও বিমান হামলার কথাই বলছেন। একরাতে তছনছ হয়ে গিয়েছে সবকিছু। ধ্বংস হয়েছে একাধিক ঘরবাড়ি।