নয়াদিল্লি: গোটা দুনিয়ায় সন্ত্রাসবাদের শীর্ষে পাকিস্তান! গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স। ২০২৫ সালের বিশ্ব সন্ত্রাসবাদের সেই তালিকাতেই শীর্ষস্থান দখল করেছে পাকিস্তান। পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোকে সরিয়ে শাহবাজ শরিফের দেশ উঠে এসেছে এক নম্বরে। জানা গিয়েছে, গত বছর ১ হাজার ৪৫টি জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ১৩৯ জনের, গত এক দশকের মধ্যে যা সর্বাধিক।
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত দেওয়া, জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়ার মতো অভিযোগে বারবার সরব হয়েছে ভারত। নয়াদিল্লির সেই দাবিতেই সিলমোহর দিল এই রিপোর্ট। অবশ্য পাকিস্তানের এই চিত্রপট অবশ্য একদিনে তৈরি হয়নি। ইনস্টিটিউট ফর ইকনমিকস অ্যান্ড পিসের প্রকাশিত সর্বশেষ গ্লোবাল টেরোরিজম ইনডেক্স অনুযায়ী, গত ১২ বছর ধরেই ধারাবাহিকভাবে প্রথম ১০টি সন্ত্রাসবাদ আক্রান্ত দেশের মধ্যে রয়েছে পাকিস্তান।
জানা যাচ্ছে, ২০২০ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী ঘটনা ছ’গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর নেপথ্যে আফগানিস্তানে তালিবানের প্রত্যাবর্তনকেই দায়ী করা হচ্ছে। তালিবান ক্ষমতা দখল করার পরে আফগানিস্তান এখন এই তালিকায় ১১তম স্থানে। সেদেশে গত বছর সন্ত্রাসী হামলা কমেছে। কিন্তু তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তানের (টিটিপি) মতো জঙ্গিগোষ্ঠীগুলি নিজেদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ও প্রশিক্ষণ ঘাঁটি হিসাবে ব্যবহার করছে আফগানিস্তানকে। তালিবানরা সেদেশে ক্ষমতায় ফিরে আসার পর থেকে পাকিস্তানে টিটিপির আক্রমণ ২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই হামলায় ৬৩৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন। ২০১১ সালের পর থেকে যা সর্বাধিক। পাশাপাশি বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মির জন্য এই সমস্যা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোয়েটার কাছে জাফর এক্সপ্রেস ট্রেন ছিনতাই করে ৪৪২ জন যাত্রীকে পণবন্দি ও তাঁদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে খুন করার মতো ঘটনা ঘটেছে।
তালিকায় ভারতের স্থান ১৩ তম। রিপোর্ট থেকে জানা গিয়েছে, গত বছর ভারতে জঙ্গি হামলার সংখ্যা কমেছে ৪৩ শতাংশ। যদিও পরিসংখ্যানে ছাপিয়ে গিয়েছে দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্র—বাংলাদেশ ও নেপাল। বাংলাদেশে সন্ত্রাসী হামলা ১০০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। উলটোদিকে নেপালে টানা তিন বছর একটিও জঙ্গিহানা হয়নি।