Bartaman Logo
২৫ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

চীনা মদতে পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকীকরণ করছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট

পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা। তার পাল্টা ভারতের অপারেশন সিন্দুর পাকিস্তানের শিরদাঁড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। এর আগে ভারতের সঙ্গে কোনও যুদ্ধেই করেও তারা এঁটে উঠতে পারেনি।

চীনা মদতে পরমাণু অস্ত্রের আধুনিকীকরণ করছে পাকিস্তান: মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্ট
  • ২৬ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলা। তার পাল্টা ভারতের অপারেশন সিন্দুর পাকিস্তানের শিরদাঁড়ায় কাঁপুনি ধরিয়ে দিয়েছে। এর আগে ভারতের সঙ্গে কোনও যুদ্ধেই করেও তারা এঁটে উঠতে পারেনি। এই অবস্থায় গণবিধ্বংসী বা পরমাণু অস্ত্রসম্ভার আধুনিক করে তুলছে পাকিস্তান। তাদের দোসর চীন। বেজিংয়ের সামরিক ও আর্থিক মদতেই তারা পরমাণু অস্ত্র অত্যাধুনিক করে তোলার কাজ চালাচ্ছে। এক মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা রিপোর্টে এমনটাই দাবি করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, ভারতের ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছে ইসলামাবাদ। কারণ ভারতকেই তারা নিজেদের অস্তিত্বের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বিপদ মনে করে। 

Advertisement

রবিবার প্রকাশিত মার্কিন প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা এজেন্সির ‘ওয়ার্ল্ড থ্রেট অ্যাসেসমেন্ট রিপোর্টে’ পহেলগাঁও হামলা পরবর্তী পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরা হয়েছে। এর প্রেক্ষাপটেই আগামী দিনগুলিতে পাকিস্তানের সামরিক ক্ষেত্রে অগ্রাধিকারের বিষয়গুলি উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুসারে, আঞ্চলিক প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সীমান্ত সংঘাত ও পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভারের আধুনিকীকরণের দিকেই ইসলামাবাদের নজর থাকবে। এছাড়া ঘরোয়া ক্ষেত্রে তেহরিক-ই-তালিবান ও বালোচ বিদ্রোহীদের নিয়েও পাকিস্তানকে নাজেহাল থাকতে হতে পারে। রিপোর্ট বলছে, পাকিস্তান বিদেশি সরবরাহকারী ও মধ্যস্থতাকারীদের কাছ থেকে গণবিধ্বংসী অস্ত্রে ব্যবহৃত উপকরণ সংগ্রহ করছে। রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, গণবিধ্বংসী অস্ত্রের আধুনিকীকরণের জন্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী ও প্রযুক্তি আসছে চীনের কাছ থেকে। কিছু কিছু হংকং, সিঙ্গাপুর, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর মতো দেশগুলির মাধ্যমে আসে। মার্কিন গোয়েন্দা রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ভারতকে নিজেদের ‘অস্তিত্বের ক্ষেত্রে বিপজ্জনক’ মনে করে পাকিস্তান। চিরাচরিত সামরিক শক্তিতে পাকিস্তানের চেয়ে অনেক এগিয়ে ভারত। সেজন্য পাকিস্তান আগামী দিনগুলিতে সামরিক শক্তিকে আধুনিক করে তোলার সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক অস্ত্রসম্ভারের উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। 
রিপোর্টে ভারতের প্রসঙ্গও উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সংঘাত সত্ত্বেও ভারত অবশ্য পাকিস্তানকে ‘নিরাপত্তা সমস্যা’র বেশি কিছু মনে করে না। বরং চীনকেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করে। বিশ্বে ভারতের নেতৃত্ব জোরালো করা, চীনের মোকাবিলা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধিই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অগ্রাধিকারের তালিকায় থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, চীনের প্রভাব মোকাবিলায় নয়াদিল্লি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলে দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সংক্রান্ত অংশিদারিত্ব শক্তিশালী করে তোলার উপর জোর দিচ্ছে। সেইসঙ্গে ভারতের সামরিক ক্ষেত্রে সাম্প্রতিক বিভিন্ন সামরিক সম্ভারের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে রিপোর্টে। বলা হয়েছে, চলতি বছরেও ভারত রাশিয়ার সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ