Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘের মণ্ডপে ফুটে উঠবে ‘প্রশ্ন’, ‘জলছবি’তে আত্মমগ্ন পদ্মপুকুর ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন

কসবা অঞ্চলের বড় দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে প্রথমেই নাম আসবে রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘের। গত কয়েক বছর ধরেই থিমের ভাবনায় চমক দিয়ে আসছে তারা।

রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘের মণ্ডপে ফুটে উঠবে ‘প্রশ্ন’, ‘জলছবি’তে আত্মমগ্ন পদ্মপুকুর ইয়ুথ অ্যাসোসিয়েশন
  • ২০ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

শুভজিত্ অধিকারী, কলকাতা: কসবা অঞ্চলের বড় দুর্গাপুজোগুলির মধ্যে প্রথমেই নাম আসবে রাজডাঙ্গা নব উদয় সংঘের। গত কয়েক বছর ধরেই থিমের ভাবনায় চমক দিয়ে আসছে তারা। এবার নব উদয় সংঘের থিম ‘প্রশ্ন’।  দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী দেবাশিস বারুই। প্রতিমাও তৈরি করেছেন তিনি। লোহার পাত, বাঁশ সহ নানাবিধ সামগ্রী দিয়ে তিনি সাজিয়ে তুলছেন মণ্ডপের অভ্যন্তর। ভিতরে ঢুকলে মনে হবে যেন, অন্তরীক্ষের একাংশের মধ্যে চলে এসেছেন। কিন্তু থিমের নাম ‘প্রশ্ন’ কেন? শিল্পী জানালেন, তিনি কোনও উত্তর খোঁজার চেষ্টা করছেন না। এখানে ‘প্রশ্ন’ একটি বিমূর্ত ভাবনা। সেই ভাবনাকে নারী-পুরুষের মাধ্যমে সাকার করে তুলেছেন। তাঁর কথায়, মানবশিশু নারী বা পুরুষ হিসেবে জন্ম নেয় না। সমাজ ঠিক করে দেয়, সে নারী না কি পুরুষ। আর তা থেকেই শুরু হয় দ্বন্দ্ব,যা চিরকালের। সেই দ্বন্দ্বকেই মণ্ডপেই ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছেন দেবাশিসবাবু। দেবী দুর্গাকে এখানে শক্তি হিসেবে দেখানো হবে, যিনি গোটা সংসারকে ধরে রেখেছেন। আলোকসজ্জার দায়িত্বে রয়েছেন প্রেমেন্দু বিকাশ চাকি। রাজডাঙ্গা নব উদয়ন সংঘের সভাপতি সুশান্তকুমার ঘোষ বললেন, ‘গতানুগতিক চিন্তাধারার বাইরে আমরা দর্শকদের কাছেনতুন কিছু তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আমরা চাই, দর্শকরা মণ্ডপে এসে থিম নিয়ে ভাবুন, চিন্তা করুন।’

Advertisement

পদ্মপুকুর ইউথ অ্যাসোসিয়েশন এবার ‘জলছবি’তে আত্মমগ্ন হওয়ার চেষ্টায় ব্রতী হয়েছে। জলাশয়ের মধ্যেই মণ্ডপ। সেখানেই অধিষ্ঠান করবেন দেবী। মণ্ডপ পরিকল্পনার দায়িত্বে রয়েছেন শিল্পী মানস রায়। তিনি জানালেন, সচেতনতার অভাবে প্রতিদিন প্রচুর জল নষ্ট হয়। সংরক্ষণ তো করা হচ্ছেই না, উল্টে আমাদের জন্য দূষিত হচ্ছে জল। মণ্ডপ থেকে জল সংরক্ষণের বার্তা দিতে চাইছেন তাঁরা। মণ্ডপে দেখা যাবে দেবী ঘট। তাঁর মধ্যেই থাকবেন দুর্গা। পাঁচটি আম্রপল্লবের বদলে ওই ঘটে থাকবে পাঁচটি হাত। চারটি হাত মানুষের, সেগুলি দেবীর কাছে প্রার্থনা করছে। আর একটি হাত দেবীর। বরাভয় দিচ্ছেন তিনি। শিল্পী আরও জানালেন, মণ্ডপকে জনপদের রূপ দিচ্ছেন তিনি। সেখানে সকলেই জলের জন্য দৌড়াচ্ছে। আয়োজকদের তরফে আশিস যাদব জানালেন, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জল সঞ্চয়ের কথা মনে করিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ। অন্যদিকে, পার্ক সার্কাস বেনিয়াপুকুর ইউনাইটেডের দুর্গাপুজোর এবার ৭৪তম বর্ষ। বরাবর সাবেকিয়ানাতেই জোর দিয়ে এসেছেন এই পুজোর উদ্যোক্তারা। এবারও তাই। পুজো কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অমিয় ভট্টাচার্য জানালেন, প্রাক প্ল্যাটিনাম জুবিলি বর্ষে ইন্দোনেশিয়ার প্রাচীন সরস্বতী মন্দিরের আদলে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। প্রতিমার দায়িত্বে রয়েছেন পদ্মশ্রীপ্রাপক ভাস্কর সনাতন রুদ্র পাল। সাবেকি সাজে সেজে উঠবে প্রতিমা। এছাড়া পার্ক সার্কাস ময়দানে বসবে মেলা। 
এন্টালি কাঁঠালবাগান সর্বজনীনের পুজো এবার ৭৯ তম বর্ষে পদার্পণ করল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দেবী দুর্গাকে ভারতমাতা রূপে বাসিন্দা পুজো করেছিলেন। এই পুজোর এবারের ভাবনা ‘রাজনন্দিনী’। দেবীকে রাজরাজেশ্বরী রূপে দেখা যাবে মণ্ডপে। আয়োজকরা জানিয়েছেন,  বাংলার অতীত গৌরব, ঐতিহ্য এবং আধুনিক নারীর মর্যাদার সংমিশ্রণ ধরা পড়বে এবারের পুজোয়।
 সেজে উঠছে রাজডাঙা নব উদয় সংঘের মণ্ডপ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ