


সংবাদদাতা, মালদহ: সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১৫০ মিটার অংশ ভাঙা। গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে তাই অনায়াসে ইচ্ছামতো ঢুকে পড়তে পারে বহিরাগতরা কিংবা মাদকাসক্তরা। এমনকি এমনভাবে ঢুকে ফাঁকা জায়গাতেই মদের আসরও বসাচ্ছে বহিরাগত মাদকাসক্তরা। এমন অভিযোগ বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের একাংশের। শুধু তাই নয়, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এজেন্সির নাকি মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে জানুয়ারি মাসের ৩১ তারিখ। তবুও কয়েকজন নিরাপত্তারক্ষী দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। পড়ুয়ারা বলছেন তাঁদের প্রায় সকলেই থাকছেন শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশ দ্বারে। পড়ুয়াদের উদ্বেগ, তাঁদের ক্যাম্পাসে নেই পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা কিংবা আলো। এই বিশ্ববিদ্যালয়েই বছর দেড়েক আগে প্রকাশ্য দিবালোকে ছাত্রীকে কুপিয়ে গিয়েছিল এক বহিরাগত। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রীতিমতো ভয় ধরাচ্ছে পড়ুয়াদের। সমস্যা মেটাতে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য আশীষ ভট্টাচার্য।
সদ্য ১৯ বছরে পা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু সময়ের নিরিখে বিশ্ববিদ্যালয়ের সুরক্ষা ব্যবস্থার করুণ অবস্থা চোখে পড়ার মতো। ৩০.৫১ একর জমিতে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র ২৫ শতাংশে রয়েছে বিভিন্ন ভবন। বাকি জমি শুধু উন্মুক্ত নয়, অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সীমানা প্রাচীরের প্রায় ১৫০ মিটার লম্বা অংশ উন্মুক্ত। ফলে ইচ্ছামতো বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে ঢুকে মাছ ধরা হোক কিংবা অন্ধকার নামলে মদের আসর বসানো, সবকিছুই করা সম্ভব কার্যত বিনা প্রতিরোধে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সুরক্ষা এজেন্সির সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ইতিমধ্যেই ফুরিয়েছে। তারপরেও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে কয়েকজন সুরক্ষা কর্মী কাজ করছেন বটে, তবে তা মূলত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক সংলগ্ন জায়গায়।
জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ক্যাম্পাসের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তা কর্মী সংক্রান্ত বিষয়ে কর্তৃপক্ষের অভিমত চেয়েছিল পুলিশ। ক্যাম্পাসে পুরোপুরি নজরদারির জন্য দরকার প্রায় ১৫০ জন নিরাপত্তা কর্মী। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তাকর্মীর সংখ্যা এখন ওই সংখ্যার মাত্র এক তৃতীয়াংশ বলে সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। তার ওপরে রয়েছে চুক্তি শেষ হওয়ার সমস্যা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বার্ষিক নিরাপত্তার বাজেট বেড়ে প্রায় ৩০ লক্ষ থেকে দু’কোটি টাকায় পৌঁছলেও নিরাপত্তার হাল এখনো করুণ বলেই মনে করছেন অনেক ছাত্রছাত্রী এবং অধ্যাপকরাও। বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের ছাত্র দীপ ঘোষ, আরবির রিম্পা খাতুন, সংস্কৃতের বিউটি কুণ্ডু সহ অনেক পড়ুয়া জানিয়েছেন, প্রাচীর ভাঙা। ক্যাম্পাসে পড়ে থাকছে মদের বোতল। বহিরাগতরা ইচ্ছামতো ঢুকছে বেরচ্ছে। সিসি ক্যামেরা এবং আলো অপ্রতুল। ক্লাস শেষ হতে সন্ধ্যা হয় প্রায়ই। ভয় লাগে কখন কী ঘটে যায়!
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী সংস্থা এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) সদস্য তথা গণিতের অধ্যাপক সনাতন দাস বলেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিকিউরিটি এজেন্সি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এই মুহূর্তে কার্যত অরক্ষিত অবস্থায়। এভাবে রেখে দেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচীরের একটা বড় অংশও ভাঙা রয়েছে। এই সমস্যাগুলির দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। ইসিতে রাজ্য সরকারের উচ্চশিক্ষা দপ্তরের প্রতিনিধি অধ্যাপক সাধন সাহার মন্তব্য, একাধিকবার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি। কিন্তু সমস্যা এখনও রয়ে গিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে যথেষ্ট নিরাপত্তা কর্মী না থাকা চিন্তার বিষয়। এখন তো শুনছি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রদানকারী সংস্থাও কয়েকদিন আগে দায়িত্ব ছেড়ে দিয়েছে। উপাচার্য সোমবার বলেন, সিসি ক্যামেরা, আলো ইত্যাদি সব বিষয়ই রয়েছে। কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সিকিউরিটি এজেন্সির মেয়াদ পুনর্নবীকরণ করা। সুরক্ষা এজেন্সি দায়িত্ব প্রত্যাহার করতে চাইছে। তাদের অনুরোধ করা হয়েছে আপাতত কাজ চালানোর জন্য। সুরক্ষা এজেন্সি নিয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়া চলছে। ভেঙে পড়া সীমানা প্রাচীরের বিষয়ে পূর্ত দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বাজেট পেলে উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে জানাব।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশে কোনো সীমানা প্রাচীর নেই।-নিজস্ব চিত্র