Bartaman Logo
৬ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

শাশুড়িকে খুনের নির্দেশ দিয়েই বাপের বাড়িতে রিয়া

আসানসোলের লালগঞ্জে শাশুড়িকে খুন করার ষড়যন্ত্রে গ্রেপ্তার হয়েছে বাড়ির ছোট বউ ও তাঁর প্রেমিক। তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

শাশুড়িকে খুনের নির্দেশ দিয়েই বাপের বাড়িতে রিয়া
  • ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: আসানসোলের লালগঞ্জে শাশুড়িকে খুন করার ষড়যন্ত্রে গ্রেপ্তার হয়েছে বাড়ির ছোট বউ ও তাঁর প্রেমিক। তদন্ত শুরু হতেই উঠে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রেমিকের সঙ্গে খুনের পরিকল্পনা ও  নির্দেশ দিয়েই ঝাড়খণ্ডের জামতাড়ায় নিজের বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল ছোট বউমা রিয়া রায়। শুধু তাই নয়, প্রেমিক সমীর আলম কীভাবে শাশুড়ির শোয়ার ঘর পর্যন্ত পৌঁছাবে, তার ‘ব্লু-প্রিন্ট’ও তৈরি করে দিয়েছিল রিয়াই। শাশুড়ির শোয়ার ঘরের সঙ্গে যুক্ত থাকা বাথরুমের গ্রিল খুলে ঢুকে পড়েছিল আলম। এরপর ঘুমন্ত অবস্থাতেই শাশুড়ি মৌ রায়কে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। পুলিশ জেরা করে জানতে পেরেছে, পুলিশের সন্দেহ থেকে বাঁচতেই ঘটনার সময়ে শ্বশুরবাড়িতে না থেকে বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল রিয়া। সেখান থেকেই প্রেমিককে দিয়ে গোটা অপারেশনটি নিয়ন্ত্রণ করছিল সে। ফোনের নির্দেশ মতো কাজ করে গিয়েছে আলম। শাশুড়ির দেহ থেকে গলার হার ও হাতের বালা খোলারও নির্দেশ দিয়েছিল রিয়া।

Advertisement

১৭ জানুয়ারি লালগঞ্জের বাসিন্দা মৌ রায়কে সকালে অচৈতন্য অবস্থায় বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়। অনেকেই ভেবেছিলেন, রাতে ঘুমের ঘোরে স্ট্রোক হয়ে গিয়েছে। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করে। স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে ময়নাতদন্ত না করিয়ে বাড়িতে দেহ আনা হয়। পরে মৃতের ভাই লক্ষ্য করেন তাঁর দিদির গলায় থাকা হার ও হাতের বালা নেই। এরপরই তাঁর নজরে পড়ে গলায় দাগ রয়েছে। তারপরই পুলিশের নজরে বিষয়টি আনা হয়। এরপরই এই হত্যা রহস্যের একের পর এক জট খুলতে থাকে। ধরা পড়ে যায় সমীর আলম ও রিয়া।

পুলিশ তদন্ত করে জানতে পেয়েছে, ২১ বছরের রিয়ার সঙ্গে ইনস্ট্রাগ্রামে পরিচয় হয় সমীর আলমের। তারপর দু’জনের ঘনিষ্টতা বাড়ে। গত বছর ডিসেম্বর মাসে মৌদেবীর বাড়ি থেকে সোনার হার, সোনার বালা ও সোনার কানের চুরি হয়। তখন বাড়িতে শুরুমাত্র ছোট বাউমা রিয়াই ছিল। আসানসোল উত্তর থানায় মৌ রিয়ার নামে গয়না চুরির করার অভিযোগ করে।  মৌ দেবীর সঙ্গে ছোট ছেলে ও তাঁর স্ত্রী রিয়াই থাকত। তাই রিয়ার বাপের বাড়ি চলে যাওয়ার পিছনে যেমন দায় এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি রয়েছে. তেমনি স্বামীকে নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাওয়ায় বাড়িও ফাঁকা হয়েছিল। এরফলে সমীর আলমকে বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ