সোনিপত (হরিয়ানা): অপারেশন সিন্দুর নিয়ে সমাজ মাধ্যমে ‘বিতর্কিত’ মন্তব্য। এমনই অভিযোগে রবিবার গ্রেপ্তার হলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এক অধ্যাপক। আলি খান মহম্মদ নামে হরিয়ানার অশোকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে দুটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। এরই ভিত্তিতে দেশের সার্বভৌমত্ব ও সংহতি নষ্ট করার অভিযোগে তাঁকে দিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর গ্রেপ্তারির প্রতিবাদে সরব হয়েছে বিরোধী শিবির। তাদের দাবি, ওই অধ্যাপকের মন্তব্য আদৌ আপত্তিকর নয়। অথচ অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্যের পরও মধ্যপ্রদেশের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অপারেশন সিন্দুর চলাকালীন প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতেন কর্নেল সোফিয়া কুরেশি ও উইং কমান্ডার ব্যোমিকা সিং। সমাজ মাধ্যমে আলি দাবি করেছিলেন, বাস্তব থেকে নজর ঘোরাতেই সোফিয়া ও ব্যোমিকাকে সামনে আনা হচ্ছে। যে হিন্দুত্ববাদীরা কর্নেল কুরেশির প্রশংসা করছেন, তাঁদের উচিত গণপিটুনিতে মৃত ও বুলডোজারের ধাক্কায় ঘরহারাদের পাশে দাঁড়ানো। তাঁর মতে, কোনও ভাষ্য তৈরি করতে হলে তা যেন বাস্তবের সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। এরপরেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে সরব হয় গেরুয়া শিবিরের সদস্যরা।
এর আগে অধ্যাপককে নোটিস পাঠিয়েছিল হরিয়ানার মহিলা কমিশন। সেই সময় আলি জানিয়েছিলেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে। মতপ্রকাশের অধিকার তাঁর রয়েছে। যদিও তাতে কান দেয়নি পুলিস। হরিয়ানার রাইয়ের ডিসিপি নরেন্দর কাদিয়ান জানান, আলির বিরুদ্ধে মহিলা কমিশনের চেয়ারপার্সন রেণু ভাটিয়া ও একজন পঞ্চায়তে প্রধান আলাদা অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জামিন অযোগ্য একাধিক ধারায় ওই অধ্যাপকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। আলির আইনজীবী জানান, ওই পঞ্চায়েত প্রধান বিজেপির যুব মোর্চার নেতা। শনিবার অভিযোগ দায়েরের পরই কোনও নোটিস ছাড়া আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আলির গ্রেপ্তারির তীব্র প্রতিবাদ করেছে বিরোধী দলগুলি। এআইএমআইএম প্রধান তথা হায়দরাবাদের সাংসদ আসাদুদ্দিন ওয়াইসির অভিযোগ, ‘আইন ভেঙে হরিয়ানা পুলিস দিল্লি থেকে ওই অধ্যাপককে গ্রেপ্তার করেছে। মতপ্রকাশের জন্য একজনকে নিশানা করা হচ্ছে। ওঁর পোস্ট কখনই দেশবিরোধী বা মহিলাদের জন্য অপমানজনক নয়। একজন বিজেপি কর্মীর অভিযোগ পেয়েই পুলিস গ্রেপ্তারির পথে হাঁটল।’ হরিয়ানা পুলিসের এই পদক্ষেপ নিয়ে আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, একজন বিশিষ্ট অধ্যাপক ও শিক্ষাবিদকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় আতঙ্কিত। এই ধর্মান্ধ সরকার ও হরিয়ানা পুলিসের কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে? আমরা দ্রুত আদালতে যাচ্ছি।’ গ্রেপ্তারির প্রতিবাদ করেছে সিপিএমও। দলের তরফে বলা হয়েছে, কর্নেল কুরেশিকে নিয়ে মধ্যপ্রদেশে বিজেপির মন্ত্রী কুৎসিত মন্তব্য করার পরেও তাঁকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না, অথচ একজন অধ্যাপক নিজের মত প্রকাশ করায় গ্রেপ্তার করা হল।