নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ভাগ্য অথবা নৈপুণ্য (স্কিল)। মানদণ্ড যাই হোক না কেন, অনলাইন গেম অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হলেই সেটা ‘নিষিদ্ধ’ হতে চলেছে। এই মর্মে বুধবার লোকসভায় পাশ হয়ে গিয়েছে প্রোমোশন অ্যান্ড রেগুলেশন অব অনলাইন গেমিং বিল, ২০২৫। রাজ্যসভায় এই বিল পাশ হলেই রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষর করবেন। তারপর তা আইনে পরিণত হবে। লগ্নি করে আরও বেশি টাকা মুনাফার প্রলোভন সংক্রান্ত তাবৎ অনলাইন গেমিং অ্যাপ আসবে এই আইনের আওতায়। আর্থিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে যেসব অ্যাপ অথবা অনলাইন সংস্থা অর্থলগ্নি করতে বলবে, তাদের পরিচালক ও মালিকদের তিন বছরের জেল বা ১ কোটি টাকা জরিমানা, অবস্থা ভিত্তিতে দুটোই হবে। অনলাইন মানি গেমের প্রচারে যুক্ত থাকলে বিজ্ঞাপনদাতা, মডেল, সংবাদমাধ্যম সকলের বিরুদ্ধেই ওই আইন কার্যকর হবে। এমনকী, কোনও ব্যক্তি যদি অনলাইন গেমের অফার গ্রহণ করে অর্থ লগ্নি করেন, তাহলে তিনিও আসবেন শাস্তির আওতায়। অর্থমন্ত্রকের হিসেব অনুযায়ী, অনলাইন গেমিংয়ের ফাঁদে পড়ে ভারতে ৪৫ কোটি মানুষ নিয়ম করে আর্থিকভাবে লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন। বিলে বলা হয়েছে, শুধুই যে সাধারণ মানুষ জুয়ায় আকৃষ্ট হচ্ছে, এর নেশায় ডুবে পরিবারকে বিপদে ফেলছে, বা সরকারের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে, বিষয়টা এখানেই শেষ নয়। অনলাইন মানি গেমিংকে আর্থিক প্রতারণা, অর্থ পাচার এবং সন্ত্রাস অর্থনীতির লক্ষ্যেও ব্যবহার করা হচ্ছে। যদিও গত ছ’মাসেই শুধু এই ধরনের গেমিং সংস্থার থেকেই জিএসটি আদায় হয়েছে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা! নজর করার মতো বিষয় হল, শুধু দেশি নয়, বিদেশি অ্যাপও ভারতের বাজারে সক্রিয়। হিসেব বলছে, এই কড়া আইন কার্যকর হলে ৩৭০ কোটি ডলার বা ৩২ হাজার কোটি টাকার অনলাইন গেমিং শিল্প জোর ধাক্কা খাবে। প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে প্রায় ২০ হাজার চাকরির ভবিষ্যৎ।



