মিস মেরি কার্পেন্টার একবার এক সভায় ইংল্যান্ডের শ্রমিক আন্দোলন নিয়ে আলোচনা করেন। সেই আলোচনা ভাবিয়েছিল তাঁকে। শ্রমিকদের অসহনীয় পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন। কিন্তু কার্পেন্টারের আলোচনা তাঁর চিন্তাভাবনাকে বিপুল প্রভাবিত করেছিল। তিনি শশিপদ বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। স্থানীয় শ্রমিকদের নিয়ে এক সভা ডাকলেন তিনি। শুনলেন তাঁদের দুর্দশার কথা। তাঁর মনে হল, শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে শিক্ষার প্রসার ঘটানো প্রয়োজন। নয়তো নিজেদের দাবিদাওয়া কখনওই মালিকপক্ষের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরতে পারবেন না তাঁরা। সমর্থও হবেন না দাবি আদায়ে। তাই শ্রমিকদের কাছে শিক্ষার গুরুত্বর কথা বিস্তারিত জানালেন। তারপরই বরানগরে তৈরি করলেন নৈশ স্কুল। কয়েকদিনের মধ্যে বিপুল জনপ্রিয়তা পেল এই স্কুল। পরে চাহিদা মেনে আড়িয়াদহ, কুঠিঘাট, কামারপাড়ায় অর্থাৎ বরানগরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় নৈশ বিদ্যালয়ে শাখা খুলতে হয়েছিল তাঁকে। শ্রমিক শ্রেণির স্বার্থে একটি পত্রিকা প্রকাশ করতেন তিনি। নাম ‘ভারত শ্রমজীবী’। সেখানে এক সম্পাদকীয়তে শ্রমিকদের উদ্দেশে লেখা হল, ‘তোমরা পাঠ করিয়া উপকার লাভ কর, ইহাই আমাদের নিবেদন।’ শ্রমিক শ্রেণির মানোন্নয়নে সবসময় সচেষ্ট ছিলেন শশিপদ। শিক্ষার গুরুত্বের পাশাপাশি শ্রমিকদের সঞ্চয়ের পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। ইংল্যান্ডের পেনি ব্যাঙ্কের অনুসরণে ‘আনা ব্যাঙ্ক’ তৈরি করেছিলেন। ১৮৬৬ সালে দুর্ভিক্ষ হল বরানগর এলাকায়। সেই সময় শ্রমিকদের সেবায় নিজেকে নিযুক্ত করেছিলেন তিনি। আর কয়েকদিন পর মে দিবস। তার আগে বাংলার শ্রমিক আন্দোলনের অন্যতম পথপ্রদর্শক মানুষটিকে শ্রদ্ধার্ঘ্য।



