Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ছাত্রীর পর এবার বৃদ্ধাকে খুন, ঘর থেকে বিবস্ত্র, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার! বিক্ষোভ-অবরোধে তপ্ত তাহেরপুর

তাহেরপুরে ছাত্রী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের খুন! এবার নিজের ঘর থেকে ষাটোর্ধ বৃদ্ধার বিবস্ত্র, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার তেতে উঠল কামগাছি এলাকায়।

ছাত্রীর পর এবার বৃদ্ধাকে খুন, ঘর থেকে বিবস্ত্র, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার! বিক্ষোভ-অবরোধে তপ্ত তাহেরপুর
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: তাহেরপুরে ছাত্রী খুনের রেশ কাটতে না কাটতেই ফের খুন! এবার নিজের ঘর থেকে ষাটোর্ধ বৃদ্ধার বিবস্ত্র, রক্তাক্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার তেতে উঠল কামগাছি এলাকায়। বিক্ষোভ-অবরোধ চলে দীর্ঘক্ষণ।  ৬১ বছরের ওই বৃদ্ধাকে খুন করা হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ। পরিবারের সদস্যরা দাবি তোলার আগেই দেহটি ময়নাতদন্তে সরাসরি কল্যাণী এইমসে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Advertisement

তাহেরপুর থানা এলাকায় একের পর এক খুনের ঘটনায় প্রশ্নের মুখে নিরাপত্তা। এদিন সকালে ঘটনাটি সামনে আসতেই সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। রানাঘাট-কৃষ্ণনগর রোডে টায়ার জ্বালিয়ে  অবরোধ করেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টা আটকে পড়ে যানবাহন। চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় নিত্যাযাত্রীদের। রাজনৈতিক কোনও দলের ব্যানার ছাড়া এমন আন্দোলনে বেশ চাপে রানাঘাট জেলা পুলিশ। সেই কারণেই সম্ভবত, কোনওরকম ঝুঁকি না নিয়েই বৃদ্ধার দেহ উদ্ধার করে তড়িঘড়ি কল্যাণী এইমসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুজোর মুখে অশান্তি এড়াতেই পুলিশের এমন নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত বলে মনে করা হচ্ছে। কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যু কিংবা খুনের ঘটনা ঘটলে পুলিশ সাধারণত রাজ্য সরকারি কোনও হাসপাতালে ময়নাতদন্ত করায়। নিহতের পরিবার দাবি তুললে তবেই কেন্দ্রীয় সরকার নিয়ন্ত্রিত হাসপাতালে দেহ পাঠানো হয়। এক্ষেত্রে ওই বৃদ্ধার দেহ সরাসরি এইমসে পাঠানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকেই। রানাঘাট পলিশ জেলার এসপি আশিস মৌর্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য এইমসে পাঠানো হয়েছে। একটি এফআইআর রুজু করে তদন্ত চলছে। পুলিশ প্রয়োজনীয় সবদিক খতিয়ে দেখছে। বৃদ্ধার মেয়ে বলেন, ‘আমার মাকে খুনই করা হয়েছে। পুলিশ দ্রুত অপরাধীদের খুঁজে বার করুক।’
জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার বাড়ি কামগাছি পোস্ট অফিস পাড়ায়। থাকতেন এক কামরার টালির চালার ঘরে। বৃদ্ধার দুই ছেলে ও এক মেয়ে। এক ছেলে অনেক আগেই মারা গিয়েছেন। অন্যজন থাকেন অন্যত্র। মেয়ের শ্বশুরবাড়ি খানিক দূরে। বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ ওই বৃদ্ধার প্রতিবেশীরা টিনের ও টালির চালে পরপর ভারী কিছু পড়ার আওয়াজ পান। তাঁদের মধ্যে চোর কিংবা ডাকাত দলের হানা হয়েছে বলে সন্দেহ হয়। কিছুক্ষণ বাদে সেই আওয়াজ থামলে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন স্থানীয়রা। তাঁরা দেখতে পান, কেউ বা কারা বেশকিছু তালের শুকনো আঁটি  ছুড়েছে কয়েকটি বাড়ির চাল লক্ষ্য করে। এলাকায় এ নিয়ে চিৎকার, চেঁচামেচি হলেও বৃদ্ধা বেরোননি। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, তাঁদের কয়েকজন কৌতূহলবশত বৃদ্ধার ঘরের কাছে যান। দেখা যায়, দরজার একটি পাল্লা হালকা করে খোলা। বৃদ্ধাকে ডাকতে ডাকতে ঘরে ঢুকেই আঁতকে ওঠেন। তাঁর একটি পা জানালার দিকে উঁচু করা। চৌকিতে অর্ধনগ্ন অবস্থায় চিত হয়ে পড়ে রয়েছেন। মাথায় গভীর ক্ষত। সেখান থেকে গলগল করে রক্ত বেরোচ্ছে। তড়িঘড়ি স্থানীয়রা বৃদ্ধাকে উদ্ধার করে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। 
পুলিশের প্রাথমিকভাবে অনুমান, মাথায় ভারীকিছু দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। তবে, কী কারণে খুন? তা এখনও স্পষ্ট নয়। সবদিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।  কৃষ্ণনগর-রানাঘাট সড়ক অবরোধ স্থানীয়দের। শুক্রবার তোলা নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ