Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

সুপ্রিম কোর্টে কাটল ওবিসি জট, বাধা নেই ভর্তি-নিয়োগে

‘উই আর সারপ্রাইজড! কীভাবে হাইকোর্ট এই মামলায় স্থগিতাদেশ দিতে পারে? সংরক্ষণ তো এগজিকিউটিভ সিদ্ধান্তের অংশ। ইন্দিরা সাহানি মামলায় ন’জন বিচারপতির রায়েই তা স্পষ্ট করা আছে।

সুপ্রিম কোর্টে কাটল ওবিসি জট, বাধা নেই ভর্তি-নিয়োগে
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ১১:০৭
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ‘উই আর সারপ্রাইজড! কীভাবে হাইকোর্ট এই মামলায় স্থগিতাদেশ দিতে পারে? সংরক্ষণ তো এগজিকিউটিভ সিদ্ধান্তের অংশ। ইন্দিরা সাহানি মামলায় ন’জন বিচারপতির রায়েই তা স্পষ্ট করা আছে। হাইকোর্টের নির্দেশ ভুলে ভরা।’ সোমবার পশ্চিমবঙ্গের ওবিসি সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করলেন দেশের প্রধান বিচারপতি বি আর গাভাই। এবং ওবিসি মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নৈতিক জয়ের মুখই দেখল রাজ্য সরকার। ওবিসি শংসাপত্রের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের উপর স্থগিতাদেশ দিল সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি বি আর গাভাই, বিচারপতি বিনোদ চন্দ্রন এবং বিচারপতি এন ভি আনজারিয়ার বেঞ্চ। ফলে সরকারি নিয়োগ বা ভর্তির ক্ষেত্রে আপাতত জটিলতা কাটল। ওবিসি সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় এতদিন ফলই প্রকাশ করা যায়নি রাজ্য ইঞ্জিনিয়ারিং জয়েন্ট এন্ট্রান্সের। উচ্চ মাধ্যমিকের ফল প্রকাশিত হলেও স্নাতকে ভর্তি শুরু করা যায়নি। উচ্চশিক্ষা দপ্তর ৩০ জুলাই পর্যন্ত কেন্দ্রীয় পোর্টালের মাধ্যমে কলেজে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়েছে। ২১ জুলাই শেষ হয়েছে মাধ্যমিক এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষার আবেদন। বাধা? ওবিসি জটিলতা। এই আইনি জট কাটলে শুধুমাত্র শিক্ষাক্ষেত্রেই প্রায় ১০ লক্ষ ছাত্রছাত্রী এবং হবু শিক্ষকের ভবিষ্যতের শঙ্কা কাটবে।

Advertisement

২০১০ সালের পর যাঁদের ওবিসি হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে, তাঁদের শংসাপত্র বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। জানিয়েছিল, ২০১০ সালের আগে পর্যন্ত যে ৬৬টি জনগোষ্ঠী অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত ছিল নিয়োগ বা ভর্তির ক্ষেত্রে তাঁদের শংসাপত্র গ্রাহ্য হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়কালের শংসাপত্র মান্যতা পাবে না। আর এতেই চূড়ান্ত অসুবিধায় পড়েছেন শিক্ষার্থী এবং চাকরিপ্রার্থীদের সিংহভাগ অংশ। তার উপর ওবিসি সংক্রান্ত নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতেই আদালত অবমাননার মামলা হয় হাইকোর্টে। তখনই ওই বিজ্ঞপ্তিতে স্থগিতাদেশ দেয় হাইকোর্ট। আগামী ৫ আগস্ট হাইকোর্টে সেই মামলার শুনানির কথা। তবে তার আগেই সুপ্রিম কোর্ট স্থগিতাদেশ জারি করে দিল হাইকোর্টের সেই রায়ের উপর। এদিনের শুনানিতে রাজ্য সরকারের আইনজীবী হিসেবে ছিলেন কপিল সিবাল এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁরা দু’জনই দাবি করেন, ‘রাজ্যের উদ্যোগে কোনও ভুল নেই। ওবিসি শংসাপত্রের বিজ্ঞপ্তি সংক্রান্ত মামলায় জটিলতার জেরে ৪০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ আটকে আছে। যাবতীয় প্রমোশন বন্ধ। ৯ লক্ষ আসনে ছাত্র ভর্তিতে জটিলতা তৈরি হয়েছে।’ যদিও তার বিরোধিতা করেন পূরবী দাস, অমলচন্দ্র দাসের আইনজীবী রঞ্জিত কুমার। বলেন, ‘রাজ্য আইন মেনে পদক্ষেপ নেয়নি। সঠিকভাবে সমীক্ষা করে ওবিসি তালিকার নাম নথিভুক্ত হয়নি। তাছাড়া ইন্দিরা সাহানি মামলায় বিষয়টি বলা থাকলেও সেখানে এও রয়েছে যে, রাজ্যের কোনও আইন কেন্দ্রীয় আইন মেনেই করতে হবে। এগজিকিউটিভ অর্ডারে হবে না।’  
তাতে অবশ্য বরফ গলেনি। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘এভাবে হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দিতে পারে না। তাই আমরা মামলায় বিবাদীদের নোটিস ইস্যু করছি। আর হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বলব, নতুন বেঞ্চ গঠন করে আগামী ছয় থেকে আট সপ্তাহের মধ্যে মামলার নিষ্পত্তি করতে।’ দু’সপ্তাহ পর সুপ্রিম কোর্টে শুনানি হবে। যদিও বিবাদী পক্ষের আইনজীবী বলেন, ‘পরের দিন আমরা আদালতকে সঠিকভাবে বুঝিয়ে দেব, সরকার ভুল। আমরা ঠিক।’ একথা শুনে হাসতে হাসতে প্রধান বিচারপতি মন্তব্য করেন, ‘দেখা যাবে, কে কাকে কী বোঝায়!’ তবে নিয়োগ এবং ভর্তির জট কাটায় নিশ্চিতভাবেই স্বস্তিতে রাজ্য সরকার। এদিন বীরভূমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বহু ক্ষেত্রে আবেদন মঞ্জুর হওয়ার পরও ওবিসি জটিলতার কারণে প্রাপ্য থেকে মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিল। হাইকোর্টের নির্দেশে সর্বোচ্চ আদালত স্থগিতাদেশ দেওয়ায় বাধা কাটল।’ শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এক্স হ্যান্ডলে জানিয়েছেন, ‘উচ্চশিক্ষা দপ্তর এমন পদক্ষেপের আশাতেই ছিল। দপ্তরের তরফে আমরা সর্বতোভাবে তৈরি।’ 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ