


সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’ চালু হচ্ছে অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে। এবার থেকে রাজ্যের সব অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে উপভোক্তাদের মুখের ছবি মিলিয়ে হাজিরা নথিভুক্ত করা হবে, তারপর দেওয়া হবে খাবার। ১ জুলাই থেকে এই পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। রাজ্যে মোট অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ১ লক্ষ ১৯ হাজার। উপভোক্তার সংখ্যা ৫০ লক্ষের বেশি। প্রত্যেকেরই ছবি ও অন্যান্য তথ্য আপলোড করা হবে ‘পোষণ অ্যাপে’। সব তথ্য আপলোড করা হলে, পুরোপুরি চালু হয়ে যাবে নয়া পদ্ধতি।
সদ্য এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে নারী, শিশু ও সমাজ কল্যাণ দপ্তর। এর জন্য উপভোক্তাদের ছবি ‘পোষণ অ্যাপে’ আপলোড করতে হবে। খাবার নেওয়ার জন্য উপভোক্তারা সেন্টারে এলে অ্যাপে আপলোড থাকা ছবির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মহিলা বা শিশুর মুখ মিলিয়ে নেওয়া হবে। এরপরই তাঁকে উপস্থিত হিসেবে গণ্য করে খাবার দেবেন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীরা। এতদিন আধার ও মোবাইল নম্বরের ভিত্তিতেই পরিষেবা দেওয়া হতো। এবারে তার সঙ্গে ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’ নামে নয়া ব্যবস্থপনা চালু হচ্ছে। যাঁরা সদ্য মা হয়েছেন অথবা অন্তঃসত্ত্বা এবং ছ’মাস থেকে ছ’বছর বয়স পর্যন্ত শিশুদের ছবি আপলোড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অর্ডার ইস্যু হওয়ার আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুধু মায়েদের ছবি আপলোড করার কাজ হয়েছে বেশ কিছু জেলায়।
দপ্তর জানিয়েছে, কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে নয়া ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। বর্তমানে একজন মহিলা অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রে যাওয়ার পর তাঁর যাবতীয় তথ্য যাচাই করা হয় অনলাইনে। কেন্দ্রীয় পোর্টালে দেখা যায় তিনি কতদিন এসেছেন। খাবার নেওয়ার ক্ষেত্রে আলাদা করে মুখের ছবি দেখার নিয়ম ছিল না। তবে নতুন নিয়ম চালু হওয়ায় একটা প্রশ্নও উঠছে। এতদিন সংশ্লিষ্ট উপভোক্তা না যেতে পারলে তাঁর বাড়ির কেউ সেন্টারে গেলে তাঁকে দিয়ে দেওয়া হতো খাবার। এবার প্রত্যেকের মুখের ছবি যাচাই করে খাবার দেওয়ার নিয়ম শুরু হচ্ছে। তাহলে কি উপভোক্তার বদলে অন্য কেউ গেলে খাবার দেওয়া হবে না? যদিও এ ব্যাপারে স্পষ্ট করে বিজ্ঞপ্তিতে কিছু বলা হয়নি।
মূলত, রোজ কত জন সেন্টারে আসছেন, খাবার নিচ্ছেন কি না, সেই সব বিষয়ে নজরদারি চালাতে এই উদ্যোগ বলেই মনে করা হচ্ছে। জেলায় জেলায় নয়া ব্যবস্থা নিয়ে প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে।