Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

রেড ফোর্ট নয়, পর্যটকদের আকর্ষণ সামনের রেড সিগন্যাল

মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এরই মধ্যে ‘ডেস্টিনেশন’ পাল্টে ফেলেছে আমজনতা। লালকেল্লা নয়। বরং রেড ফোর্ট ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষের এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সেই রেড সিগন্যাল।

রেড ফোর্ট নয়, পর্যটকদের আকর্ষণ সামনের রেড সিগন্যাল
  • ১৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

দিব্যেন্দু বিশ্বাস, নয়াদিল্লি: মাত্র এক সপ্তাহ পেরিয়েছে। এরই মধ্যে ‘ডেস্টিনেশন’ পাল্টে ফেলেছে আমজনতা। লালকেল্লা নয়। বরং রেড ফোর্ট ঘুরতে আসা সাধারণ মানুষের এখন আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে সেই রেড সিগন্যাল। এখানেই গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ তীব্র বিস্ফোরণে কেঁপে উঠেছে গোটা এলাকা। একাধিক মানুষ নিহত হয়েছে। আহতের সংখ্যাও অনেক। এই রেড সিগন্যালেই তীব্র যানজটে ফেঁসে থাকতে থাকতে আচমকাই বিস্ফোরণে উড়ে গিয়েছে ঘাতক হুন্ডাই আই-টুয়েন্টি গাড়ি। আর তারই সঙ্গে দুমড়ে মুচড়ে গিয়েছে সামনে পিছনে থাকা আরও একাধিক যানবাহন। ‘অভিশপ্ত’ সেই রেড সিগন্যালই এখন একবার চোখের দেখা দেখতে চাইছে সাধারণ মানুষ। 

Advertisement

সিগন্যাল মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকার সময় পাশে এলেন এক তরুণ দম্পতি। ভদ্রলোক জানতে চাইলেন, এটিই কি সেই জায়গা? চোখ বিস্ময়ে বড় বড়। আশেপাশের আরও কিছু মানুষ জড়ো হয়ে গিয়েছেন সেইসময়। মোবাইলে ছবিও তুলছেন কেউ কেউ। পরমুহূর্তেই হয়তো প্রাসঙ্গিক কোনও হ্যাশট্যাগ সমেত সেইসব ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড হবে। লালকেল্লায় ঘুরতে আসা মণীশ বললেন, রেড ফোর্টে আগেও এসেছি। কিন্তু যে রেড সিগন্যাল মোড়ে এতবড় ঘটনা ঘটে গেল, তা একবার নিজের চোখে দেখে যাওয়া অবশ্যই প্রয়োজন। ভয়াবহ ওই বিস্ফোরণের পর সাতদিন পেরিয়ে গিয়েছে। তা সত্ত্বেও লালকেল্লা, চাঁদনি চকের আশপাশের বাসিন্দাদের আতঙ্ক এখনও কাটেনি। মঙ্গলবার লালকেল্লা সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা গেল, শীতের চাঁদনি চক মার্কেট ভিড়ে ঠাসা। বিয়ের মরশুম শুরু হয়েছে। তাই দেদার বিয়ের কেনাকাটাও চলছে চাঁদনি চকে। বিকিকিনি চলছে, উচ্চকণ্ঠে দরদামও করছেন ক্রেতারা। কেনাকাটার ফাঁকে চাঁদনি চকের বিখ্যাত রাবড়ি-জেলিবি উপভোগ করছেন দিল্লিবাসী। এক ঝলকে দেখলে মনে হতে বাধ্য, কখনও কোনও বিপর্যয় ঘটেনি এই এলাকায়। সব আগের মতোই স্বাভাবিক। তবে পরক্ষণেই সেই ভুল ভাঙে। কারণ স্বাভাবিক হতে চাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টার মধ্যেও প্রত্যেকের মনে তাড়া করে বেড়াচ্ছে অজানা ভয়। যেখানে বিস্ফোরণ ঘটেছিল, তার উল্টোদিকের গলিতে এক মোবাইল রিপেয়ারিং দোকানের মালিক বললেন, কাল এখান থেকে মোবাইল কিনে এক খদ্দের তাঁর ব্যাগ আমার দোকানে রেখে গিয়েছিল পাশের সুলভ শৌচালয়ে। মিনিট পাঁচেকের ব্যবধান। খদ্দের আমার পরিচিতও। তবুও মনে হচ্ছিল, এই ব্যাগে কিছু নেই তো? অর্থাৎ, দিল্লি বিস্ফোরণের এক সপ্তাহে সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্কের সঙ্গে মিশে গিয়েছে অবিশ্বাসের চোরাস্রোতও। আর তাই লালকেল্লার সামনে চিরপরিচিত তীব্র যানজটে ফেঁসে গাড়ি নিয়ে এগোতে এগোতে গাড়িচালকরা ইষ্টনাম জপছেন। সামনের গাড়িতে কোনও বিস্ফোরক লুকিয়ে রাখা নেই তো? 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ