


বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: গৃহঋণ বা অন্য কোনও ব্যক্তিগত লোন নেওয়ার সময় যাচাই হয় ক্রেডিট স্কোর। সেটা হল, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ শোধের ক্ষমতা এবং রেকর্ড। যিনি ঋণ নিচ্ছেন, তিনি আদৌ তা শোধ করতে পারবেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য রয়েছে চারটি ক্রেডিট ইনফরমেশন সংস্থা। তারাই সাধারণ মানুষের আর্থিক লেনদেন ও ঋণ সংক্রান্ত ইতিহাস ঘেঁটে জানিয়ে দেয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঋণ শোধবার ক্ষমতা আছে কি না। সেইমতো গ্রাহকের ক্রেডিট স্কোর তৈরি হয়। চারটি সংস্থার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংস্থাটির নাম ট্রান্সইউনিয়ন সিবিল। ওই সংস্থা যে সূচককে সামনে রেখে ঋণগ্রহীতার গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে, তাকে বলে ‘সিবিল স্কোর’। যে ব্যক্তির সিবিল স্কোর যত ভালো, তাঁকে ঋণ দেওয়ার ঝুঁকি তত কম। এ তো গেল ঋণ মাহাত্ম্য। চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রেও কি সিবিল স্কোর বা অন্য কোনও সংস্থার ক্রেডিট স্কোর দরকার? আশ্চর্যের বিষয় হল, খোদ কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক বলছে, দরকার! তারা জানাচ্ছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরির জন্য চাকরিপ্রার্থীদের ঋণ শোধের ক্ষমতাও যাচাই করে নেওয়া হচ্ছে।
যাঁরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে চাকরি করতে চান, তাঁদের সবাইকে ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকিং পার্সোনেল সিলেকশন বা আইবিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। সেখানেই প্রাথমিকভাবে নিয়ম করা হয়, আবেদনকারীর ন্যূনতম ৬৫০ সিবিল স্কোর থাকতে হবে। তবেই আবেদন করা যাবে। পরে সেই শর্তে কিছু বদল আনা হয়েছে। ৬৫০ সিবিল স্কোরের শর্তটি সরিয়ে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মী কাজে যোগদানের সময় যাচাই হবে তাঁর ক্রেডিট স্কোর। নিয়োগপত্র হাতে পাওয়ার আগে আপডেটেড সিবিল স্কোর বা অন্যান্য ক্রেডিট স্কোর দেখাতে হবে ওই ব্যক্তিকে। যাঁরা তা করবেন না অথচ ইতিমধ্যেই কোথাও দেনা করেছেন, তাঁদের ঋণদাতার থেকে ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ আনতে হবে। সেখানে তিনি বলবেন, কোনও ইএমআই বকেয়া নেই প্রার্থীর। যদি ওই শর্ত না পূরণ হয়, তাহলে চাকরির নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না। বা দেওয়া হলেও, তা বাতিল হতে পারে।
প্রশ্ন হল, বাজারে দেনা আছে কি না, বা তা থাকলেও ঋণ শোধের ক্ষমতা আছে কি না, সেই তথ্য চাকরির বাজারে কেন এত জরুরি? এই সংক্রান্ত একটি জবাব সংসদে দিয়েছে অর্থমন্ত্রক। বাদল অধিবেশনে তারা জানিয়েছে, ব্যাংক কর্মীরা আর্থিক লেনদেনে জড়িত থাকেন। ঋণের আবেদন প্রসেস করেন এবং গ্রাহকের অ্যাকাউন্টের দেখভাল করেন। ক্রেডিট স্কোর যাচাই করার অন্যতম কারণ, যাঁকে জনগণের টাকা নাড়াচাড়া করার অধিকার দেওয়া হচ্ছে, তাঁর আর্থিক বিচক্ষণতা কী? ঋণ শোধের ক্ষমতা যাচাইয়ের মাধ্যমেই এটা জানা সম্ভব। ব্যাংকগুলির এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কর্মচারীরা। তাঁদের সর্ববৃহৎ সংগঠন অল ইন্ডিয়া ব্যাংক এমপ্লয়িজ অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, ‘আমরা এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ করছি। ব্যাংকের চাকরিতে ক্রেডিট স্কোরের কোনও প্রয়োজনীয়তা নেই। কারণ চাকরির সঙ্গে ঋণ প্রদানের সক্ষমতার বাস্তবে কোনও যোগাযোগই নেই। এমনিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিতে কাজের চাপ প্রচুর। যে পরিমাণ শূন্যপদ আছে, তা পূরণ করার কোনও উদ্যোগই নেই সরকারের। অথচ সুষ্ঠু পরিষেবা চালু রাখতে সবচেয়ে আগে জরুরি পর্যাপ্ত নিয়োগ।’
নিয়োগ নিয়ম
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীকে প্রমাণ করতে হবে, তাঁর ব্যক্তিগত জীবনে ঋণ মেটানোর রেকর্ড ভালো।
চাকরিপ্রার্থীর ন্যূনতম সিবিল স্কোর বা সমগোত্রীয় ক্রেডিট স্কোর কত হবে, সেই নিয়ম ব্যাঙ্ক ভেদে আলাদা আলাদা।
চাকরিতে যোগ দেওয়ার সময় যদি ক্রেডিট স্কোর আপডেট করা না থাকে, তা আপডেট করতে হবে।
যদি আপডেট না করা হয়ে থাকে, তাহলে প্রার্থীকে ঋণদাতার থেকে লিখিয়ে আনতে হবে, ওই তারিখ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর ইএমআই বকেয়া নেই।
এগুলি না থাকলে নিয়োগপত্র দেওয়া হবে না, বা নিয়োগই বাতিল হয়ে যেতে পারে।