Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘বাইরের কারও প্রয়োজন পড়েনি’, সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের দাবি ওড়ালেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর

ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির পিছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও হাত নেই। বৃহস্পতিবার ফের জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর।

‘বাইরের কারও প্রয়োজন পড়েনি’, সংঘর্ষবিরতিতে ট্রাম্পের দাবি ওড়ালেন বিদেশমন্ত্রী জয়শঙ্কর
  • ২৩ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নয়াদিল্লি: ভারত ও পাকিস্তানের সংঘর্ষবিরতির পিছনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনও হাত নেই। বৃহস্পতিবার ফের জানালেন বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। নেদারল্যান্ডসের সংবাদ সংস্থা ‘এনওএস’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘বাইরের কারও প্রয়োজন পড়েনি। আমেরিকা সহ প্রত্যেক দেশকে ভারত জানিয়ে দিয়েছিল সংঘর্ষবিরতির জন্য প্রস্তাব দিতে হবে ইসলামাবাদকেই। তবেই এই নিয়ে বিবেচনা করবে দিল্লি। সেরকমটাই হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে আমাদের হটলাইন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ১০ মে পাকিস্তানি সেনার পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয়, তারা গোলাগুলি বন্ধ করতে রাজি। তাতে আমরা সম্মত হই।’ যদিও ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে আমেরিকা যে চেষ্টা করেছিল, তা মেনে নিয়েছেন জয়শঙ্কর। বিদেশমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিও কথা বলেছিলেন আমার সঙ্গে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী মোদিকে ফোন করেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভান্স।’ তবে সেই বিষয়টিকে বড় করে দেখাতে চাননি বিদেশমন্ত্রী। তাঁর দাবি, শুধু আমেরিকাই নয়, পশ্চিম এশিয়ার অনেক দেশ উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে ফোন করেছিল।

Advertisement

২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে নারকীয় জঙ্গি হামলায় প্রাণই হারান ২৮ জন। নিহতদের মধ্যে সিংহভাগই পর্যটক। তার বদলা নিতে পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের ন’টি জায়গায় হামলা চালায় ভারত। ভারতের এই ‘অপারেশন সিন্দুর’ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। ভারত যখন সুবিধাজনক অবস্থায় রয়েছে তখন ১০ মে হঠাৎই সংঘর্ষবিরতিতে সায় দেয় নয়াদিল্লি। ঘটনার পর ১২দিন কেটে গিয়েছে। কীভাবে এই সংঘর্ষবিরতি ঘটল, তা নিয়ে সংশয় জারি গোটা বিশ্বে, যা আরও বাড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বারবার সংঘর্ষবিরতির কৃতিত্ব দাবি করে। ফলে ভারতকেও বলতে হচ্ছে, পাকিস্তানের থেকে প্রস্তাব আসার পর সম্মতি দেওয়া হয়েছে। ভারতের ‘অপারেশন সিন্দুরে’ বহু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে পাকিস্তানের। এরপরেও পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরকে পাঁচ তারা পদমর্যাদার ‘ফিল্ড মার্শাল’ পদে উন্নীত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে জয়শঙ্কর সাফ জানিয়েছেন, পহেলগাঁও হামলার পিছনে আসিম মুনিরের চরমপন্থী ধর্মনীতিই দায়ী। 
আবার জঙ্গি হামলা হলে ভারত ‘অপারেশন সিন্দুর’-এর মতোই প্রত্যাঘাত করবে বলে সাফ জানিয়েছেন বিদেশমন্ত্রী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রসঙ্ঘের তালিকায় থাকা জঙ্গিদের ঘাঁটিতেই হামলা চালানো হয়েছে। পাকিস্তানকে সবক শেখাতেই তাদের বিমানবন্দরে এবং প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় আঘাত হানা হয়েছিল। এরপরই পাকিস্তান সংঘর্ষবিরতির প্রস্তাব দিতে বাধ্য হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ