নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: তাঁরা ভোটের প্রার্থী হননি। কিন্তু ‘ননপ্লেয়িং একাদশ’-এ রয়েছেন। প্রার্থী না-হয়ে তাঁরা প্রচারে সপ্রতিভ। তাঁরা হলেন সিপিএমের তরুণ সৃজন ভট্টাচার্য ও শতরূপ ঘোষ। একসময় রব উঠেছিল সৃজন নাকি যাদবপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হচ্ছেন। অবশেষে যাদবপুরের প্রার্থী হলেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। আবার দমদম উত্তরে শতরূপের প্রার্থী হওয়ার কথা উঠেছিল। কিন্তু সেখানে হলেন দীপ্সিতা ধর। তাহলে তাঁরা এখন কী করছেন? এর উত্তর, খোলা মনে প্রচার।
গত সোমবার বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু প্রার্থী ঘোষণার পরেই সন্ধ্যায় যাদবপুরে মিছিল করেন বিকাশবাবু। পথে নেমেছিলেন বিমান বসু, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়, সুজন চক্রবর্তীরা। আর সৃজনকে দেখা যায় শির ফুলিয়ে স্লোগান দিতে। পরের দিন সৃজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচার শুরু করেন। বাসিন্দাদের কাছে তাঁকে শুনতেও হচ্ছে, ‘আপনি কেন প্রার্থী হলেন না?’
সূত্রের খবর, সৃজন নিজেই চাননি। কারণ, তিনি এসএফআইয়ের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। ফলত, সেই কাজে তাঁকে রাজ্যের বাইরে থাকতে হয়। এই অবস্থায় ভোটের সময় আচমকা যাদবপুরে নামতে চাননি তিনি।
সৃজন বলছিলেন, ‘যাদবপুরে তো কাজ করছিই। এরপর পার্টি যেখানে পাঠাবে যাব। সাধারণ মানুষকে বলছি, আমাকে অনেক নতুন ভোটার ভোট দিয়েছিলেন। বিকাশদা সেই সংখ্যা আরো বাড়াবেন। আমি তো দুটো ভোট লড়েছি। ভোটের কাজ করেছি অনেকবছর। প্রার্থী হওয়ার বাইরেও অনেক কাজ থাকে। সেগুলোও তো করতে হবে।’
সৃজন মনে করছেন, বিকাশবাবুর জয়ের সম্ভাবনা প্রবল। অন্যদিকে, শতরূপ সোশ্যাল মিডিয়ায় দেদার প্রচার শুরু করেছেন। শুধু কি সোশ্যাল মিডিয়ায়? একেবারেই নয়। প্রার্থীদের প্রচারে পথসভা, দেওয়াল লিখনেও নেমে পড়েছেন তিনি। শতরূপের সাফ কথা, ‘সে তো কাউন্সিলার নির্বাচনে, পঞ্চায়েত নির্বাচনেও দাঁড়াইনি। তা বলে কি অন্য কাজ থাকে না? দেওয়াল লিখন করছি। পথসভা করছি।’ এদিন সকালেই শতরূপকে দেখা যায়, কসবা কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী দীপু দাসকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়াল লিখনে ব্যস্ত তিনি।